Pahalgam attack : কাশ্মীরে রক্তগঙ্গা বইয়ে নিঃসংশয় পাকিস্তান! রাষ্ট্রসঙ্ঘে প্রশ্নবানে বিদ্ধ, লস্করের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে মুখ খুলতেই নারাজ!

পর্যটন মানেই মনের খোরাক, দুঃখ ভুলে একটুখানি শান্তির খোঁজ। কাশ্মীরের পহলগাম—যার সৌন্দর্য বিশ্বজোড়া, বহু হিন্দু ও বিদেশি পর্যটকের কাছে স্বপ্নের গন্তব্য। সেখানেই দিনকয়েক আগে হঠাৎ নেমে এল রক্তের স্রোত। যারা এসেছিলেন প্রকৃতির রূপ দেখতে, তাঁদেরই মুখ থুবড়ে পড়তে হল এক ভয়ঙ্কর জঙ্গি হানার সামনে। অনেকেই ভাবতেই পারেননি, ছুটির দিনে এমন বিভীষিকার শিকার হতে হবে।

এই রক্তাক্ত ঘটনার পর স্বাভাবিক ভাবেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে আন্তর্জাতিক রাজনীতি। ভারতের ভূখণ্ডে পর্যটকদের উপর এই নৃশংস হামলা নিয়ে আলোচনার ঝড় ওঠে রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদে। কেউ কেউ বলছেন, এই ঘটনা ভারতের অভ্যন্তরীণ সুরক্ষা ব্যবস্থাকে টার্গেট করলেও, বাস্তবে এর গভীরে রয়েছে আন্তর্জাতিক চক্রান্ত। সেই জল্পনার আবহেই এবার সরাসরি কাঠগড়ায় পাকিস্তান।

নিরাপত্তা পরিষদের মুখোমুখি হয়ে বেশ অস্বস্তিতে পড়ে যায় পাকিস্তানের প্রতিনিধি দল। পরিষদের তরফে স্পষ্ট প্রশ্ন করা হয়—পহলগামে হামলা চালানো সংগঠন ‘দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’ যেহেতু লস্কর-ই-তোইবার ছায়া সংগঠন, সেক্ষেত্রে ইসলামাবাদ প্রশাসনের সঙ্গে লস্করের সম্পর্ক কতটা গভীর? উত্তরে পাকিস্তানি প্রতিনিধি আসিম ইফতিকার সরাসরি ওই অভিযোগ অস্বীকার করেন। তবে জঙ্গি সংগঠনের দায় স্বীকার ও পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়ে বিশ্বাসযোগ্য ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হন তিনি।

জঙ্গি হামলার পরও পাকিস্তান আন্তর্জাতিক মহলে ভারত বিরোধী প্রচার চালাতে থাকে। কিন্তু নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে সেই প্রপাগান্ডা কার্যত ভেস্তে যায়। এমনকি, একাধিক সদস্য পাকিস্তানের পরমাণু অস্ত্র মজুত ও সম্প্রতি চালানো ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছয় যে, শান্তি প্রতিষ্ঠার নামে নিরাপত্তা পরিষদের দ্বারস্থ হয়ে শেষমেশ নিজের ফাঁদেই জড়িয়ে পড়ে ইসলামাবাদ।

আরও পড়ুনঃ Mock drill : ফিল্মি দৃশ্য নয়, বাস্তবেই আসছে ‘ব্ল্যাকআউট’! ৭ মে গোটা দেশে যুদ্ধকালীন মহড়া,কি করতে হবে আগামীকাল?

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যরা একযোগে এই হামলার তীব্র নিন্দা জানায় এবং নিরীহ বিদেশি পর্যটকদের হত্যাকে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ বলে ব্যাখ্যা করে। পাকিস্তানের প্রতি চাপ বাড়ে—তাদের জঙ্গি দমনে বিশ্বাসযোগ্য পদক্ষেপ নিতে হবে। সেইসঙ্গে অবিলম্বে ভারতের সঙ্গে সংলাপে বসার পরামর্শও দেওয়া হয়। পাকিস্তানি দূত ইফতিকার হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ উড়িয়ে দিলেও তাঁর যুক্তি পরিষদে খুব একটা বিশ্বাসযোগ্য বলে ধরা হয়নি। আন্তর্জাতিক মঞ্চে তাই আপাতত চাপে ইসলামাবাদ।

Jui Nag

আমি জুই নাগ, পেশায় নিউজ কপি রাইটার, লেখালেখিই আমার প্যাশন। বিনোদন, পলিটিক্স ও সাম্প্রতিক খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য। তথ্যভিত্তিক ও আকর্ষণীয় কনটেন্টের মাধ্যমে সঠিক সংবাদ পৌঁছে দিই।

আরও পড়ুন

আরও অন্যান্য খবর