বিয়ের পরের দিনই বরের মৃত্যু করোনায়, বিহারের এই খবরে দিনদুয়েক আগেই হইচই পড়ে গিয়েছিল গোটা দেশে। সাড়ে তিনশো জন আমন্ত্রিতের মধ্যে ১১১ জনও করোনা আক্রান্ত বলে জানা গিয়েছিল। এবার আরও ৭২ জনের আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছে। ওই পাত্রের বাবার বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ।
ঘটনাটি ঘটেছে গত ১৫ই জুন। পাটনার পালিগঞ্জের সেই বিয়েবাড়িতে এসেছিলেন প্রায় ৩৫০ আমন্ত্রিত। বিয়ে উপলক্ষ্যে গুরুগ্রাম থেকে গাড়িতে করে পাটনার বাড়িতে এসেছিলেন পেশায় ইঞ্জিনিয়ার পাত্র। বিয়ে করতে আসার দিনই শরীর একদমই ভাল ছিল না পাত্রের। জ্বর ও ডায়েরিয়া নিয়েই বিয়ে করতে যান তিনি।
প্রত্যক্ষদর্শীদের কথায়, বিয়ের পিঁড়িতে বসে তাঁর শরীর খারাপ বাড়তে থাকে। তবুও তাঁকে সাধারণ জ্বর, পেট ব্যথার ওষুধ খেয়ে বিয়ে সারতে বলা হয়। বিয়ের পর পরই তাঁর শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি হলে তাঁকে শেষমেষ পাটনা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই পরের দিন মৃত্যু হয় তাঁর। যদিও করোনাভাইরাসের লক্ষণ থাকা সত্ত্বেও তাঁর করোনা সংক্রান্ত কোনো চিকিৎসাই করা হয়নি। এমনকি তাঁর দেহের করোনা টেস্টের আগেই সৎকার সেরে ফেলেন তার পরিজনরা।
ইতিমধ্যে করোনার লক্ষণ দেখা যায় সেদিন বিয়েবাড়িতে বহু আমন্ত্রিতদের মধ্যে। বহুজনের করোনা টেস্টের রিপোর্ট পজিটিভ আসে। এরপর প্রশাসনের তরফ থেকে বিয়েবাড়িতে আমন্ত্রিতদের তালিকা ধরে ট্র্যাক করা হয়। বিয়েতে ও শেষকৃত্যে অংশ নেওয়া প্রায় ৪০০ ব্যক্তির করোনা টেস্ট করা হয়। তাঁদের মধ্যে প্রায় ১১১ জনের করোনা পজিটিভ আসে। তাঁদের সকলকে আইসোলেশনে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। নতুন পাওয়া খবর অনুযায়ী আরও ৭২ জনের করোনা পজিটিভ এসেছে।
ভারতে যতই আনলকের পর্ব চলুক না কেন, সামাজিক দূরত্ব বিধি লঙ্ঘন করতে বারবারই কেন্দ্রীয় সরকার থেকে বারণ করা হচ্ছে। তবে তা মানছেন না অনেকেই। আর তার ফল যে কত মর্মান্তিক হতে পারে তার প্রমাণ মিলল বিহারে।





