মুম্বাই পুলিশের হাতে অন্যায় ভাবে সাংবাদিক অর্ণব গোস্বামীর গ্রেফতার, প্রতিবাদে গর্জে উঠলেন অনুপম হাজরা

আজ সকালেই জোর করে সাংবাদিক অর্ণব গোস্বামী কে গ্রেফতার করে নিয়ে গিয়েছে মুম্বাই পুলিশ। দুই বছর আগে ক্লোজ হয়ে যাওয়া একটি আত্মহত্যার প্ররোচনা দেওয়ার মামলায় তাকে আজ গ্রেফতার করেছে মুম্বাই পুলিশ। যা নিয়ে সকাল থেকেই সোশ্যাল মিডিয়া সরগরম। অর্ণব গোস্বামী বিরোধীরা এই ঘটনা অত্যন্ত খুশি হলেও যারা একটু সচেতন এবং শুভবুদ্ধি সম্পন্ন তাদের কিন্তু একটা বিষয় যথেষ্ট ভাবাচ্ছে। সংবাদমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করতে গিয়ে দু বছর আগের একটি বন্ধ হয়ে যাওয়া মামলাকে পুনরায় খুলে হঠাৎ তৎপর হয়ে এক সাংবাদিককে জোর করে গ্রেফতার করে নিয়ে যাওয়ার পিছনে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার চরিতার্থ করার গন্ধই পাচ্ছে ওয়াকিবহাল মহল।

কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রী এই ঘটনার যথেষ্ট নিন্দা করেছেন এবং অনেক সাধারণ মানুষও কিন্তু গোটা ঘটনার নিন্দা করছেন অর্ণব এর সঙ্গে ধারণার তফাৎ থাকলেও। এবার গোটা ঘটনার প্রতিবাদ করলেন বিজেপির কেন্দ্রীয় সম্পাদক তথা প্রাক্তন সাংসদ ডঃ অনুপম হাজরা। ‌তিনি বললেন যে মহারাষ্ট্র সরকারের সঙ্গে তিনি বাংলার মমতা সরকারের মিল খুঁজে পাচ্ছেন এবং তার কারণও তিনি যুক্তি সহকারে দর্শিয়েছেন।

তিনি লিখেছেন, “মহারাষ্ট্র সরকারের প্রতিহিংসামূলক চিন্তাভাবনায় বাংলার সরকারের চিন্তাভাবনার প্রতিচ্ছবি। নির্লজ্জ মুম্বাই পুলিশ, পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের যোগ্য প্রতিযোগী। মহারাষ্ট্র সরকারের পতন আসন্ন।” তিনি সমস্ত সাংবাদিকদের এই ঘটনায় এগিয়ে আসতে বলেছেন যদি সংবাদমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করতে কখনো কোনো সরকার যেন না পারে। এরপরই তিনি আর একটি পোস্টে উল্লেখ করেছেন যে কীভাবে মমতা সরকারও এই রাজ্যে সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের উপর নিপীড়ন চালাচ্ছেন।

তৃণমূলের দুর্নীতি দেখানোই আরামবাগ টিভির সম্পাদক সফিকুল ইসলামকে সপরিবারে গেরিলা কায়দায় গ্রেফতার করে নিয়ে গিয়েছিল মমতা সরকারের পুলিশ। দীর্ঘদিন জেলে থাকার পর কিছুদিন আগে মুক্তি পেয়েছেন সফিকুল। এই ঘটনার উল্লেখ করেছেন অনুপম বাবু। তিনি জানিয়েছেন যে পশ্চিমবঙ্গ এই ভাবেই সরকারের বিরুদ্ধে কথা বললেই তাকে পুলিশ তুলে নিয়ে যায়।

তাঁর মতে, কিভাবে আজকে ধস্তাধস্তি করে অর্ণব গোস্বামীকে পুলিশ ভ্যানে তুলেছে তার থেকে তো আজমল কাসভ কে অনেক যত্নসহকারে রাখা হয়েছিল। এই দিনগুলো সেই এমার্জেন্সি সময়ের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে যখন কংগ্রেস সরকার ক্ষমতায় ছিল। ‌আর এই ঘটনাগুলো বিজেপি শাসিত নয় এরকম রাজ্যেই কিন্তু হচ্ছে। তাই এবার সাংবাদিকবন্ধুদের একত্রিত হওয়ার সময় এসে গিয়েছে সরকারের এই ঘৃণ্য আচরণের বিরুদ্ধে। এভাবেই গোটা মিডিয়ার ফ্রেটার্নিটিকেই তিনি সরকারের এই হিটলারি আচরণের বিরুদ্ধে সরব হওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন।তিনি আশঙ্কা করছেন যে এখনই যদি এই বিরুদ্ধে মুখ খোলা না হয় তাহলে ভবিষ্যতে সংবাদমাধ্যমের বাকস্বাধীনতার ওপর অনেক বড় বিপদ অপেক্ষা করে রয়েছে।

RELATED Articles