Trending Story: শিক্ষার জন্য ত্যাগ না প্রচার? মালতির স্কুল ঘিরে বিতর্ক, ভুল স্বীকার স্বামীর!

পাহাড়ি গ্রামে থাকা মানেই যেন সরকারি সুবিধার বাইরে থাকা। নেই পর্যাপ্ত পরিকাঠামো, নেই পড়াশোনার উপযুক্ত পরিবেশ। বৃষ্টির জল পড়ছে শ্রেণিকক্ষে, পাখা ঘোরে না, বিদ্যুৎ নেই। স্কুল চলছে, কিন্তু নেই সেই আগের মতো পড়ুয়ার ভিড়। বরং গড়ে উঠছে সমান্তরাল স্কুল, যেটি সরকারি নয়, কিন্তু নামছে চর্চার কেন্দ্রে। এমনই এক ছবিতে উঠে এসেছে পুরুলিয়ার বাঘমুন্ডি ব্লকের জিলিংসেরেঙ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুর্দশা আর মালতি মুর্মুর নাম ঘিরে তৈরি হওয়া নতুন বিতর্ক।

জিলিংসেরেঙ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবস্থা চোখে পড়ার মতো। দেওয়াল খসে পড়ছে, শ্রেণিকক্ষে চুইয়ে পড়ছে জল। শিক্ষক-শিক্ষিকারা এলেও তাঁদের বসার জায়গা ভেজা। পাখা-আলো থাকলেও বিদ্যুৎ না থাকায় শ্রেণিকক্ষে নেমে এসেছে অন্ধকার। মিড ডে মিলের চালেও গন্ধ ধরেছে, রান্নার যোগ্য নয়। নেই জল, নেই পানীয় জলের ব্যবস্থাও। সৌরচালিত পানীয় জলের প্রকল্প থাকলেও তা কাজ করছে না। বিদ্যালয়ে সদর দরজা না থাকায় সাপ ঘুরে বেড়ায়। আর এই কারণেই পড়ুয়ারা সরে যাচ্ছে স্কুল থেকে।

জলজঙ্গলঘেরা পরিবেশে মালতি মুর্মুর উদ্যোগে তৈরি হওয়া অবৈতনিক স্কুলেই এখন পাঠ নিচ্ছে অনেকে। ওই স্কুলে ব্যাগ, ড্রেস, খাতা সবই মেলে। মালতির স্কুলে পড়ুয়ার সংখ্যা এখন সরকারি স্কুলের থেকেও বেশি। সরকারি স্কুলে ছাত্রসংখ্যা ৪৩ হলেও উপস্থিতি মাত্র ২৫-৩০ জন। আর মালতির স্কুলে ৩৫-৪০ জন পড়ুয়া নিয়মিত পড়ে। ৮-৯ জন সরকারি স্কুলছুট পড়ুয়া এখন পড়ছে মালতির বিদ্যালয়ে।

সামাজিক মাধ্যমে প্রশংসা কুড়িয়ে আসা মালতি ও তার স্বামী বাঙ্কা মুর্মুর বক্তব্যে ধরা পড়েছে ফাঁক। সরকারি সাহায্য বা স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার অবদান স্বীকার না করে ‘সব নিজেই করছেন’ এই বক্তব্য ঘিরেই তৈরি হয়েছে বিতর্ক। স্বামী বাঙ্কা মুর্মু পরে স্বীকার করেছেন ভুল। জানিয়েছেন, মাসে মাসে আড়াই হাজার টাকা তাঁকে সাম্মানিক হিসেবে দেওয়া হতো। সেই টাকা এবং অন্য সাহায্যের কথা তিনি মালতিকে বলেননি। তাই মালতির বক্তব্য ছিল ‘আধা’। সেই কারণেই তাঁকে ট্রোল করা হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ Fishermen Arrested: ইলিশের টানে বিপদে কাকদ্বীপ! আন্তর্জাতিক সীমানা লঙ্ঘনের অভিযোগে বাংলাদেশে আটক দুই ট্রলার, ৩৪ জন মৎস্যজীবী!

যে সংস্থা মালতির স্কুলকে সাহায্য করছিল, তাদের অন্যতম সদস্য শোভন মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, মিড ডে মিল, ড্রেস, মাটির দেওয়াল মেরামতির জন্য তাঁরা ২০২৪ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে সাহায্য করে আসছেন। এমনকি রান্নার দায়িত্বে থাকা রাঁধুনিকেও সাম্মানিক দেওয়া হয়। তাঁদের বক্তব্য, মালতি ও বাঙ্কা যদি সেই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতেন, বিতর্ক এড়ানো যেত। তবে পাঠদানের প্রতি মালতির নিষ্ঠাকে তাঁরা কুর্নিশ জানিয়েছেন। অন্যদিকে, বিতর্কের মাঝেও এখনও মালতির স্কুলে বই, খাতা, জামাকাপড় বিলি করছে নানা সংস্থা। শিক্ষা যেন থেমে না যায়— সেটাই মূল লক্ষ্য।

Jui Nag

আমি জুই নাগ, পেশায় নিউজ কপি রাইটার, লেখালেখিই আমার প্যাশন। বিনোদন, পলিটিক্স ও সাম্প্রতিক খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য। তথ্যভিত্তিক ও আকর্ষণীয় কনটেন্টের মাধ্যমে সঠিক সংবাদ পৌঁছে দিই।

আরও পড়ুন

RELATED Articles