এবার দেশের মানুষকে কোভিড-১৯ সংক্রমণ থেকে বাঁচাতে মাস্ক বানাচ্ছেন সংশোধনাগার-এ বন্দিরা

দেশে তথা সারা বিশ্বের মানুষ এখন কোরোনা ভাইরাসের প্রকোপ থেকে বাঁচতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। কিন্তু এই মরণ ভাইরাস থেকে বাঁচতে যে দুটি জিনিসের আকাল পড়েছে বাজারে সেগুলি হলো মাস্ক এবং স্যানিটাইজার। তাই এবার মাস্কের যোগান দিতে এগিয়ে এসেছেন জেলে বন্দি মানুষরা।

দেশের মানুষ যাতে সুস্থ থাকেন, সেজন্য জেলে বসে কোভিড-১৯ প্রতিরোধক মাস্ক বানাচ্ছেন বন্দিরা। এমনকি দিনের নির্দিষ্ট সময় পার হলেও তারা সাধারণ মানুষের জন্য যত বেশি সংখ্যক সম্ভব মাস্ক বানানোর চেষ্টা করছেন। এই অভিনব উদ্যোগ শুরু হয়েছে বিহারের এক কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারে।

শুধুমাত্র কারাগারের বাইরের মানুষের জন্য নয়, বরং তারা সহ বন্দিদের জন্য দিনরাত এক করে মাস্ক বানাচ্ছেন। তাদের একটাই লক্ষ্য তারা চায় সবাই যেন এই মারণ রোগের সংক্রমণ থেকে বাঁচতে পারেন।

সংশোধনাগারের ডেপুটি সুপারিটেনডেন্ট সুনীল কুমার মৌর্য জানিয়েছেন, ‘সংশোধনাগারে বহুদিন ধরেই কাপড় দিয়ে বিভিন্ন সামগ্রী তৈরি করার ঐতিহ্য চলে আসছে। কিন্তু এই প্রচলিত সময় যখন করোনার আতঙ্কে কাঁপছে গোটা দেশ, অথচ দোকানদাররা মাস্কের যোগানে অক্ষম তখনই ভাবা হয়, সংশোধনাগারে থাকা বন্দিদের দক্ষতা প্রয়োগ করে কেন আমরা মাস্ক বানাচ্ছি না! এরপরই প্রায় খান পঞ্চাশ বন্দি মিলে মাস্ক তৈরির কাজে নেমেছেন।’ এ বিষয়ে সংশোধনাগার কর্তৃপক্ষের ভূয়সী প্রশংসা করে, তাদের এই অভিনব উদ্যোগে তাঁদের যাবতীয় সাহায্য করা হবে বলে জানিয়েছেন বিহার পূর্বের উপ-মহুকুমা আধিকারিক কুন্দন কুমার।

সমাজের চোখে যারা অপরাধী, নিজেদের অপরাধের দন্ড পাওয়ার পরও যারা সমাজের মূল স্রোতে ঠাঁই পান না তাঁরাই আজ সেই তথাকথিত সভ্য মানুষের বিপদে দিনে এগিয়ে এসে তাদের মাস্কের যোগান দিচ্ছে। এই উপকার সমাজ হয়তো কোনোদিন মনে রাখবে না কিন্তু “মানুষ মানুষের জন্য” এবং সেই মানুষের মধ্যে বিভেদ মিটিয়ে কোথাও সবাইকে একসূত্রে বেঁধেছেন বিহারের ওই সংশোধনাগার কর্তৃপক্ষ। তাই তাদের কুর্নিশ না করে থাকা যায় না।

RELATED Articles

Leave a Comment