“উদ্বাস্তুদের সম্মান দিয়েছে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন”, দাবি অমিত শাহ-এর

এই বছরের শুরুতে দেশজুড়ে প্রতিটি মানুষের মুখে মুখে একটি নাম ছিল সিএএ। দেশব্যাপী চলেছে সিএএর প্রতিবাদ। এবার সেই সিএএ নিয়ে ফের মুখ খুললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বিহারের বিধানসভা নির্বাচনের পূর্বে এক অনির্বাচনী ভার্চুয়াল সভায় বিজেপির সাফল্যের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এ দেশের উদ্বাস্তুদের সম্মান দিয়েছে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ)।’

রবিবার ভিডিয়ো কনফারেন্সের মাধ্যমে ভার্চুয়াল ‘বিহার জনসংবাদ র‌্যালি’-র আয়োজন করেছিল বিজেপি। সেখানে শুরুতেই শাহ বক্তব্য রাখেন, ‘আমি সমস্ত করোনা যোদ্ধাদের কুর্নিশ জানাচ্ছি। যাঁরা নিজেদের জীবনকে বাজি রেখে ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়ে চলেছেন। স্বাস্থ্যকর্মী, পুলিশ সহ সমস্ত প্রথম সারির যোদ্ধাদের প্রতি আমরা সকলে কৃতজ্ঞ। এই ভার্চুয়াল র‌্যালি কোনও নির্বাচনী বা রাজনৈতিক সভা নয় বরং মহামারীর মোকাবিলায় সারাদেশের মানুষকে একসাথে নিয়ে আসার একটা প্রচেষ্টা মাত্র।’

যদিও এই বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সরকারের ‘সাফল্য’র কথাও তুলে ধরেন শাহ। প্রত্যাশিতভাবেই তাতে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের কথাও উঠেছে। শাহ বলেন, ‘মোদীজি নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের মাধ্যমে ভারতের উদ্বাস্তুদের নাগরিকত্ব দিয়েছেন এবং সাথে সম্মানও দিয়েছেন।’

তবে সিএএ নিয়ে যে বিজেপি ভবিষ্যতেও প্রচার চালাবে, সে ইঙ্গিতও স্পষ্ট ছিল। রাজনৈতিক মহলের মতে, করোনার জেরে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন নিয়ে বিজেপির রব কমেছিল। কিন্তু মোদি সরকার ২.০-র প্রথম বর্ষপূর্তির দিন মোদীর চিঠিতে সরকারের ‘সাফল্য’-এর তালিকায় স্পষ্ট বোঝা গেল সিএএ নিয়ে প্রচার ভবিষ্যতে আরও বাড়াবে বিজেপি। বিশেষত বিহারের পর ২০২১শে পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা ভোট। সেখানে মানুষকে নিজেদের দিকে টানতে সিএএ নিয়ে প্রচার যে আরও দৃঢ় হবে তা বলাই বাহুল্য। উপরন্ত এই রাজ্য বাংলাদেশের সাথে বর্ডার শেয়ার করার দরুন, এ রাজ্যের মানুষের সিএএ-র প্রতি যে আলাদা ভাবনা থাকবে তা বলাই যায়। তাই আগে ভাগেই বিহারের ক্ষেত্রে বিজেপি প্রস্তুতি সেরে রাখছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক মহল।

RELATED Articles

Leave a Comment