কেন্দ্র ও রাজ্যের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা সিপিএম-কংগ্রেসের। বিপদে পড়লে যে শত্রু-মিত্র সকলে এক হয়ে যায়, এই কথা সবাই জানে। করোনা মোকাবিলায় এবার ভারতীয় রাজনীতিতে বাজল একতার সুর। রাজনৈতিক বিভেদ দূরে সরিয়ে করোনার মোকাবিলায় রাজ্য এবং কেন্দ্রীয় সরকারের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দিল সিপিএম ও কংগ্রেস।
সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র জানিয়েছেন, ”আমরা মনে করি করোনা প্রতিহত করাই আমাদের মুখ্য চ্যালেঞ্জ। দলমত নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ ভাবে তা প্রতিহত করতে হবে। এটা উদ্বেগের কারণ কিন্ত আতঙ্কের নয়। অযথা আতঙ্কিত হবেন না। আতঙ্ক ছড়াবেন না।”
সূর্যকান্ত মিশ্র নিজেও একজন চিকিৎসক, তাই তিনি সরকারের দেওয়া গাইডলাইন অনুসরণ করতে বলছেন রাজ্যবাসীকে। তাঁর কথায়, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ভারত সরকার ও রাজ্য সরকার যা ঘোষণা করেছে, সেগুলি মেনে চলুন। এটা সমস্ত মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। অনেকে প্রচারপত্রও বিলি করছেন। মাস্ক কারা ব্যবহার করবেন আর কারা করবেন না, তাও স্পষ্ট বলা রয়েছে। এখন চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য কর্মীদের সবাইকে N95 মাস্ক দেওয়ার দাবিও করেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক।
দলের কর্মীদের উদ্দেশ্যেও বার্তা পাঠান সূর্যকান্তবাবু, “দু-তিন জন সচেতনতা প্রচারে বেরোলেই হবে। বাড়িতে বাড়িতে খোঁজ নিন কারও জ্বর, কাশি ও শ্বাসকষ্ট হচ্ছে কিনা। বড় সভা, সম্মেলন, মিছিল এখন সব বাতিল। সামাজিক অনুষ্ঠানে সতর্ক থাকুন।” কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে মজুত সাড়ে ৭ কোটি টন খাদ্যশস্য আছে। সেই খাদ্যশস্য এবার বাজারে ছেড়ে দেওয়ার আবেদনও করেছেন সূর্যকান্ত মিশ্র।
অন্যদিকে, বিবৃতি জারি করে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্র জানান, “প্রতিটি গ্রাম, ব্লক ও অঞ্চলে কর্মীদের নিয়ে স্বেচ্ছাসেবী দল গঠন করা হোক। সমাজের প্রান্তিক মানুষদের পাশে দাঁড়ান। রাজ্য সরকারের করোনাভাইরাস মোকাবিলায় কর্মসূচিগুলিকে স্বাগত জানান। সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিন।”
সৌভ্রাতৃত্বের সুর মুখ্যমন্ত্রীর গলাতেও। এদিন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বার্তা দেন, “ইচ্ছাকৃতভাবে রোগ নিয়ে রাজনীতি কেন? এ পার্টি, ও পার্টির পক্ষ নেন, দায়িত্বজ্ঞানহীন নিউজে আতঙ্ক ছড়ালে কড়া পদক্ষেপ করবে সরকার। পার্টি করার টাইম পাবেন। আমার সঙ্গে দিল্লির ঝগড়া আছে। এখন করছি না। করোনা মোকাবিলা ওদের থেকে বেশি করছি।”
তাই পরিস্থিতি রোধে যেভাবে একজোট হয়েছে সমস্ত রাজনৈতিক দলগুলি, সেই দেখে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন সাধারণ মানুষ।






