দীপাবলির আকগে খুশির মেজাজ। কেন্দ্রীয় সরকারি চাকুরেদের মহার্ঘভাতা অর্থাৎ ডিএ বৃদ্ধির ঘোষণা করল অর্থমন্ত্রক। এই সুবিধা পাবেন অবসরপ্রাপ্ত কর্মীরাও। এতদিন ডিএ মিলত বেতনের ২৮ শতাংশ। এখন তা মিলবে বেতনের ৩১ শতাংশ।
এই বাড়তি ডিএ-র ফলে ৪৭ লক্ষেরও বেশি কেন্দ্রীয় সরকারি চাকুরে ও ৬৮ লক্ষ পেনশন প্রাপক খুবই উপকৃত হবেন। টুইট করে এই সুখবর জানালেন অর্থমন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী অনুরাগ ঠাকুর। উৎসবের সময় এমন খবর পেয়ে বেশ খুশি কর্মীরাও।
করোনা আবহের জেরে দেশের কোষাগারে টান পড়েছিল। এই কারণে গত এক বছর ডিএ স্থগিত রাখা হয়। তবে করোনা সংকট কাটিয়ে ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে দেশের অর্থনীতি। এই কারণে এবার বকেয়া ডিএ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্র সরকার।
আজ, বৃহস্পতিবার সকালে বৈঠক করে এই সিদ্ধান্তে সায় দেয় কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। স্থির হয় যে ডিএ ও ডিআর বাড়ানো হবে ৩ শতাংশ। এই ডিআর হল পেনশন প্রাপকদের জন্য। এই নতুন হারের বর্ধিত ডিএ মিলবে ২০২২ সালে ১লা জুলাই থেকে।
জানা গিয়েছে, এই বাড়তি ডিএ দিতে কেন্দ্রকে বছরে অতিরিক্ত ৯৪৮৮.৭০ কোটি টাকা খরচ করতে হবে। আর অবসরপ্রাপ্তদের ডিয়ারনেস রিলিফ-সহ মোট কেন্দ্রের বাজেট গিয়ে দাঁড়াচ্ছে ৩৪,৪০০ কোটি টাকাতে। কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তে বেশ খুশি কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীরা। দীপাবলির আগে বাড়তি মহার্ঘভাতা হাতে আসার খবরে খুবই উচ্ছ্বসিত তাঁরা।
আবার এদিকে, রাজ্য কো-অর্ডিনেশন কমিটি অর্থাৎ সিপিএম সমর্থিত কর্মী সংগঠনের তরফে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। রাজ্য সরকারের কাছেও একই হারে মহার্ঘ ভাতা বৃদ্ধি দাবী তুলেছেন দলের সাধারণ সম্পাদক বিজয় সিংহ।
একটি প্রেস বিবৃতি জারি করে তিনি বলেন, “যখন নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম আকাশছোঁয়া, পেট্রোপণ্যের মূল্যের সীমাহীন বৃদ্ধি সেই মুহূর্তে রাজ্য কর্মচারীদের প্রতিনিয়ত বেতনহ্রাস এবং পাহাড় প্রমাণ বঞ্চনা। তাই আমাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে রাজ্য সরকারের কাছে কেন্দ্রীয় হারে মহার্ঘভাতা দেওয়ার জন্য দাবি জানাচ্ছি। ইতিমধ্যে গত ৮ সেপ্টেম্বর , ২০২১ আমাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে বকেয়া মহার্ঘভাতা দেওয়ার দাবিতে মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে বকেয়া মহার্ঘভাতার পরিমাণ আরও ৩% বৃদ্ধি পেল। সুতরাং সরকার যদি এই প্রাপ্য বকেয়া মহার্ঘভাতা দেওয়ার কোন সদিচ্ছা না দেখায় তাহলে সরকারি কোষাগার থেকে প্রাপ্ত বেতনভুক কর্মচারীরা বৃহত্তর আন্দোলন সংগ্রামের পথে নামতে বাধ্য হবে”।





