দিল্লির বুকে এক আশ্রম ঘিরে শুরু হয়েছে চাঞ্চল্য। বাইরে থেকে শান্তি ও আধ্যাত্মিকতার আড়ালে চলছিল অন্ধকার খেলা। অভিযোগ উঠেছে, এক ধর্মগুরু দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতার অপব্যবহার করে তরুণীদের শিকার বানিয়েছেন। আশ্রমের ভেতরে লুকিয়ে রাখা বিলাসবহুল জীবনযাত্রা ও অশালীন কর্মকাণ্ডের খবর প্রকাশ্যে আসতেই দেশজুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
গত ৪ আগস্ট দিল্লির বসন্ত কুঞ্জ থানায় পার্থ সারথী ওরফে স্বামী চৈতন্যনন্দ সরস্বতীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়। সেখানে বলা হয়, তিনি একে একে ১৭ জন ছাত্রীকে যৌন হেনস্থা করেছেন। পুলিশের কাছে মোট ৩২ জন ছাত্রীর বয়ান রেকর্ড করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে অনেকে জানিয়েছেন, অভিযুক্ত আপত্তিজনক ভাষা ব্যবহার করতেন, অশ্লীল মেসেজ পাঠাতেন, এমনকি অনিচ্ছুক শারীরিক স্পর্শেরও চেষ্টা করতেন। অভিযোগকারীদের বক্তব্য অনুযায়ী, শুধু তাই নয়, এই স্বঘোষিত ধর্মগুরু প্রায়শই ব্ল্যাকমেল ও হুমকি দিতেন।
অভিযোগে আরও উঠে এসেছে, আশ্রমের তিন মহিলা কর্মী এবং এক প্রশাসক তাঁকে এই কাজে সহায়তা করত। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই শ্রী শৃঙ্গেরি মঠ তৎপরতা দেখায় এবং দ্রুত চৈতন্যনন্দ সরস্বতীকে তাঁর পদ থেকে সরিয়ে দেয়। মঠের তরফে জানানো হয়, তিনি অবৈধ ও অনুপযুক্ত কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন, তাই প্রতিষ্ঠান তাঁর সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করেছে। পাশাপাশি কর্তৃপক্ষ পুলিশের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ দায়ের করেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, এই প্রথম নয়, চৈতন্যনন্দ সরস্বতীর বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক অভিযোগ উঠেছে। ২০০৯ সালে দিল্লির ডিফেন্স কলোনিতে তাঁর বিরুদ্ধে প্রতারণা ও শ্লীলতাহানির মামলা হয়েছিল। আবার ২০১৬ সালে বসন্ত কুঞ্জের এক মহিলাও একই ধরনের অভিযোগ করেন। গত ১২ বছর ধরে তিনি আশ্রমের তত্ত্বাবধায়ক ও পরিচালক হিসেবে কাজ করছিলেন। বর্তমানে তিনি গা-ঢাকা দিয়েছেন। তাঁর শেষ অবস্থান আগ্রায় ট্র্যাক করা গেলেও, পুলিশ জানিয়েছে তিনি ক্রমাগত স্থান পরিবর্তন করছেন এবং খুব কমই মোবাইল ফোন ব্যবহার করছেন।
আরও পড়ুনঃ Viral video: পালানোর চেষ্টা করতে গিয়ে পুলিশের হাতে পড়ল যুগল! পুলিশের গাড়িতে নাচ ও জনসমক্ষে ঘনিষ্ঠতার দৃশ্য ভাইরাল!
তদন্ত চলাকালীন পুলিশ আশ্রমের বেসমেন্ট থেকে একটি ভলভো গাড়ি উদ্ধার করে। গাড়িটির গায়ে ভুয়ো রাষ্ট্রসংঘের কূটনৈতিক নম্বর প্লেট লাগানো ছিল। কীভাবে এই ভুয়ো প্লেট সে জোগাড় করল, তা নিয়েও চলছে জোর তদন্ত। গাড়িটি ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজও খতিয়ে দেখছে এবং দিল্লি-সহ বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালাচ্ছে। একের পর এক তথ্য সামনে আসতে থাকায় এই কেলেঙ্কারি এখন শুধু দিল্লি নয়, দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।





