করোনা রুখতে দেশজুড়ে এখন লকডাউনের নির্দেশ জারি রয়েছে গত ২৫শে মার্চ থেকে। যার জেরে দুর্বার হচ্ছে মানুষের সাধারণ জীবনযাত্রা। ব্যবসা বাণিজ্য সব মুখ থুবড়ে পড়েছে মাটিতে। অর্থনীতি তো তলানিতে এসে ঠেকেছে। এই সময়ও কিছু মানুষ অন্যের দুঃখ কষ্টের ভাগিদার হতে পিছপা হচ্ছেন না। নিজের সামর্থ্য অত্যন্ত সীমিত। কিন্তু তার মধ্যেই ১ টাকায় ইডলি বিক্রি করে চলেছেন তামিলনাড়ুর কমলাথাল। ৮৫ বছরের এই বৃদ্ধা এই মন্দার বাজারেও ইডলির দাম তিনি বাড়াতে নারাজ। শ্রমিকরা যখন দলে দলে বাড়ির পথে ফিরছেন তখন পথে থেমে তাঁর দোকান থেকে দুটো ইডলি খেয়ে যাবেন তাঁরা, এই জন্যেই তাএ উদ্দ্যোগ।
কমলাথালের আর এক নাম ইডলি আম্মা। গত ৩০ বছর ধরে তিনি মানুষকে ইডলি খাইয়ে যাচ্ছেন। ১ টাকায় ইডলি বিক্রি করে আগেও খবরে এসেছেন তিনি। কিন্তু লকডাউনের জেরে তাঁর ব্যবসা ভীষণ রকম ক্ষতির সম্মুখীন। বন্ধ রয়েছে কলকারখানা, যাঁরা আগে তাঁর দোকানে এসে সস্তায় ইডলি খেয়ে যেতেন তাঁরা আজ কোথায় হারিয়ে গেছে। কিন্তু লক্ষ্যে স্থির ইডলি আম্মা এত কিছুর পরেও এক টাকাতেই তাঁর ইডলি বেচে চলেছেন। নইলে বাড়ি ফেরার পথে ওই মানুষগুলো খাবে কি যারা লকডাউনে ভিন্ন রাজ্যেই আটকে গেছেন? যারা জানেন না ঠিক করে কবে বাড়ি ফেরা হবে? কবে আবার বাড়িতে উনুন জ্বলবে?
এই খবর ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথেই শুরু হয়েছে সাহায্য আসা। অনেকে ইডলি তৈরির জিনিসপত্র পাঠিয়ে দিচ্ছেন তাঁকে, যাতে মাত্র ১ টাকায় গরিবের মুখে খাবার তুলে দিতে কোনও সমস্যা না হয় ইডলি আম্মার।





