করোনা মোকাবিলায় যাঁরা শেষ ভরসা, সেই চিকিৎসকদের ভরসা দেবে কে? এখনই পড়ুন

ডাক্তাররাই নাকি ভগবানের রূপ। করোনা প্রতিরোধে তাঁদের আপ্রাণ চেষ্টা এই কথাকে স্বীকার করে। তবে যাঁরা আমজনতার শেষ ভরসা তাঁদের ভরসা দেবে কে? সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের জুনিয়র আবাসিকদের পশ্চিমবঙ্গের সকল স্বাস্থ্যসেবা কর্মীদের পক্ষ থেকে সামাজিক মাধ্যমের সহায়তায় সরকারের কাছে তাঁদের প্রতি দৃষ্টিবান হ‌ওয়ার আবেদন করেন। সামাজিক মাধ্যমে এই আবেদনপত্রে বোঝা যায় কতটা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন তাঁরা। পাচ্ছেন না নূন্যতম স্বাস্থ্য-সরঞ্জাম টুকুও। তাঁরা সুরক্ষিত থাকলেই সুরক্ষিত থাকবে সমাজ সেটা কবে বুঝবে সরকার!

সামাজিক মাধ্যমের ওই আবেদন পত্রে লেখা হয়েছে আমরা, স্বাস্থ্যসেবা কর্মীরা করোনার বিরুদ্ধে লড়াই করার মূল শক্তি। কিন্তু আমরা আমাদের প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা সুবিধাগুলি পাচ্ছিনা। প্রশাসনের অবহেলার কারণে আমরা চরম বিপদে পড়েছি।

কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রক কর্তৃক কোভিড-১৯ পরিচালনার নির্দেশিকা প্রকাশিত হওয়ার প্রায় ১ মাস পেরিয়ে যাওয়ার পরেও আমরা নিজেরা নির্দেশিকা দ্বারা প্রস্তাবিত যথাযথ সুরক্ষা সরঞ্জাম থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। এবং বর্তমানে সরকার যথাযথভাবে পরীক্ষা না করে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা দমন করার চেষ্টা করছে। ফলস্বরূপ আমরা, চিকিৎসকরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছি বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা।
কয়েকটি উদাহরণ দিয়ে তাঁরা বলে-

প্রথমত, ৫ই এপ্রিল এনআরএসএমসিএইচ-র একজন রোগী মারা যান এবং তিনি কোভিড -১৯ পজিটিভ ছিলেন। এরপর ৫৫ জন স্বাস্থ্যসেবা কর্মীকে আইসোলেশনে পাঠানো হয় কারণ তাঁদের কাছে অতি আবশ্যক পিপিই ছিলনা এবং তারা রোগীর সংস্পর্শে আসেন।

দ্বিতীয়ত, কয়েকদিন আগেই কলকাতা মেডিকেল কলেজের স্ত্রী রোগ বিভাগে একজন রোগীর করোনা পজেটিভ রিপোর্ট আসে। এই ঘটনার পরে কর্তৃপক্ষ বিভাগকে শাট ডাউন ঘোষণা করে এবং সেই রোগীর সংস্পর্শে আসা সমস্ত স্টাফের পরীক্ষা হয়। এবং তাঁদের আইসোলেশনে পাঠানো হয়। কিন্তু বাস্তবে বিভাগটিতে এখন রোগীদের চিকিৎসা পুরোদস্তুর চলছে এবং স্টাফদের কোয়ারেন্টাইন না মেনেই পুনরায় কাজে যোগ দিতে বাধ্য করা হয়েছে।

এইরকম বেশ কিছু অভিযোগ তাঁরা তাঁদের আবেদনপত্রে তুলে ধরেছেন এবং তাঁদের অনুরোধ এই মহামারী প্রতিরোধে সরকার যেন তাদের প্রতি সহানুভূতিশীল হয়। যদি চিকিৎসকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হন তাহলে সাধারন মানুষের বাঁচার আর কোন রাস্তাই খোলা থাকবে না। তাই আমাদেরও আবেদন সরকার পক্ষের কাছে যে, সময় থাকতে স্বাস্থ্য সেবা কর্মীদের প্রতি দৃষ্টিবান হোন নইলে ভবিষ্যত হবে আরও ভয়ঙ্কর।

RELATED Articles

Leave a Comment