ফিরে এলো ভোপাল গ্যাস দুর্ঘটনার ভয়াবহ স্মৃতি। এবার ঘটনাস্থল বিশাখাপত্তনম। বৃহস্পতিবার ভোররাতে বিশাখাপত্তনমের অদূরে গোপালপত্তনমে ‘এলজি পলিমার্স ইন্ডিয়া’ নামের একটি সংস্থার রাসায়নিক কারখানা থেকে বিষাক্ত গ্যাস নির্গত হতে শুরু করে। দুর্ঘটনায় এখনও পর্যন্ত অন্তত ৮ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। যাদের মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে। অসুস্থ হয়ে পড়েছেন আর শ’খানেক মানুষ। গুরুতর অসুস্থ হয়ে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন বহু। অসুস্থদের মাথা যন্ত্রণা, বমি ভাব ও শ্বাসকষ্টের উপসর্গ দেখা গিয়েছে। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়বে, এমনই আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ওই কেমিক্যাল প্ল্যান্টের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, অন্ধ্র প্রদেশের বিশাখাপত্তনমে ওই বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানে একধরণের উদ্ভিদ থেকে নির্গত রাসায়নিক থেকেই ওই বিষাক্ত গ্যাস তৈরি হয়েছে, আর সেটিই কোনওভাবে বাইরের বাতাসে মিশে যাওয়াতেই এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি হয়েছে। এলাকার বহু মানুষ ইতিমধ্যে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। প্রায় ২০০ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
Precautionary Measures for Gas Leak accident. pic.twitter.com/kMVNi4zBI1
— Greater Visakhapatnam Municipal Corporation (GVMC) (@GVMC_OFFICIAL) May 7, 2020
গ্যাস লিক হওয়ার খবর টের পাওয়ার পরেই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় দমকল, অ্যাম্বুলেন্স ও পুলিশ। জোরকদমে চলছে উদ্ধারকার্য। এই পরিস্থিতিতে রাস্তায় যাতে কেউ না বেরোন, সে ব্যাপারে মানুষকে সতর্ক করে ট্যুইট করে গ্রেটার বিশাখাপত্তনম পুরসভা।
এলজি পলিমার ইন্ডিয়া প্রাইভেট লিমিটেডের ওই প্লান্ট থেকে যে গ্যাস লিক হচ্ছে তা প্রথম বুঝতে পারেন এলাকার কাছাকাছি থাকা স্থানীয় বাসিন্দারাই। আরআর ভেঙ্কটাপুরাম গ্রামের বাসিন্দারা জানান যে, তাঁদের চোখ হঠাৎ করে খুব জ্বালা করতে শুরু হয়েছে ও নিশ্বাস-প্রশ্বাসে ভয়ঙ্কর কষ্ট হচ্ছে। এরপরেই অসুস্থ হয়ে পড়া ওই ব্যক্তিদের স্থানীয় হাসপাতালে পাঠানো হয়।
যে ছবি ইতিমধ্যে সংবাদমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়া গুলিতে ভাইরাল হয়েছে, তাতে দেখা যাচ্ছে এলাকায় কমপক্ষে ১০ জন ব্যক্তি জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে পড়ে রয়েছেন। অন্তত শতাধিক মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। রাস্তায় পড়ে রয়েছে অসংখ্য গবাদিপশু। পাখিরাও ছাড় পায়নি এই এই বিষাক্ত গ্যাস থেকে। অসুস্থদের হাসপাতালে পাঠানোর জন্য সাহায্যে এগিয়ে আসছেন স্থানীয়রা। সব মিলিয়ে পরিস্থিতি বেশ ভয়াবহ হয়ে উঠেছে এলাকায়। ধীরে ধীরে বাড়তে পারে মৃতের সংখ্যা।
১৯৮৪ সালের ৩ ডিসেম্বর ভোপালের গ্যাস দুর্ঘটনা কেড়ে নিয়েছিল বহু প্রাণ। পরবর্তী সময়ে বিষাক্ত গ্যাসের কারণে পঙ্গু হয়েছিলেন অনেকেই। তিন দশক পার করে সেই ভয়াবহ স্মৃতি এবার ফিরে এল অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনমে। দেশের পরিস্থিতি এমনিই সঙ্গীন। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় এলাকার পরিস্থিতি আরও শোচনীয় অবস্থা হতে যাচ্ছে। এখন সাধারণ মানুষ এটাই প্রার্থনা করছেন, যাতে মৃত্যুমিছিল আর না বাড়ে।





