প্রেমে পড়া তো সহজ, প্রেম করে বিয়ে করাও সহজ। কিন্তু সেই প্রেম টিকিয়ে রাখা সহজ নয়। প্রেমের বিয়েতে ভালোবাসা তাড়াতাড়ি ফুরিয়ে যায়। লাভ ম্যারেজেই দাম্পত্য কলহ বেশি হয়। এক বিবাহবিচ্ছেদ মামলায় রায়ে এমনটাই পর্যবেক্ষণ করল হাইকোর্ট।
কোন মামলায় এমন পর্যবেক্ষণ?
সেনাবাহিনীতে চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত নবীন কোহলি নামের এজ ব্যক্তির বিবাহবিচ্ছেদের মামলাতেই এমন পর্যবেক্ষণ আদালতের। জানা গিয়েছে, নবীন কোহলির স্ত্রী নীলু কোহলিও একজন চিকিৎসক। ২০০৬ সালে হিন্দু আইন মেনে বিয়ে করেন তারা। নবীনের এটি দ্বিতীয় বিয়ে ছিল। প্রথমের দিকে সব ঠিকঠাক থাকলেও, ধীরে ধীরে তিক্ততা দানা বাঁধে তাদের সম্পর্কে।
জানা গিয়েছে, বিয়ের ৬ বছরের মাথাতেই এই সম্পর্কে হাঁপিয়ে ওঠেন নীলু। নিত্যদিন অশান্তি লেগে থাকত তাদের মধ্যে। সম্পর্কে দেখা দেয় বড় ফাটল। এর জেরে ২০১৫ সালে পারিবারিক আদালতে বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন জানান নবীন কোহলি। তবে সেই আদালতে তাঁর সেই আবেদন খারিজ হয়ে যায়। এরপর ২০১৯ সালে তিনি দ্বারস্থ হন এলাহাবাদ হাইকোর্টের।
নবীন হাইকোর্টে জানান, দীর্ঘদিন ধরেই তাঁর স্ত্রী আলাদা থাকছেন। তাঁর বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন মঞ্জুর হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি। এরপরই এলাহাবাদ হাইকোর্ট জানান, নবীনের এই আবেদন যদি মঞ্জুর না হয়, তাহলে তাঁর সঙ্গে ‘নিষ্ঠুরতা’ করা হবে।
কী জানাল হাইকোর্ট?
এলাহাবাদ হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের বিচারপতি বিবেক কুমার বিড়লা ও দোনাদি রমেশের মতে, “প্রেম থেকে সহজেই বিয়ে করা যায়। আর সহজেই স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে বৈবাহিক বিবাদ শুরু হয়। এর জন্য দায়ী যে-ই থাকুক না কেন, সামান্য বিবাদেই সম্পর্ক আর টেনে নিয়ে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তাঁরা। অন্তত একটি পক্ষ আলাদাভাবে বসবাস শুরু করে”।
এই মামলার প্রেক্ষিতে এলাহাবাদ হাইকোর্ট জানায়, হিন্দু বিবাহ আইনে সংশোধনের প্রয়োজন রয়েছে। বিচারপতিদের পর্যবেক্ষণ, ১৯৫৫ সালে যখন হিন্দু বিবাহ আইন প্রণয়ন হয়, সেই সময় বৈবাহিক সম্পর্কের মধ্যে অনুভূতি ও শ্রদ্ধা আলাদা ছিল। কিন্তু এখন পরিস্থিতি ও সময় দুই-ই বদলেছে। বর্তমান পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই হিন্দু বিবাহ আইনে সংশোধন আনা উচিত বলে মত এলাহাবাদ হাইকোর্টের।





