ভারত স্বাধীন হয়েছে ১৫ আগস্ট। কিন্তু সেই স্বাধীনতার পতাকা ভারতের মাটিতে ওড়াতে গিয়ে, তাতে বলিদান দিয়েছেন অনেক মানুষ। অনেক লড়াইয়ের পর ভারতের এই স্বাধীনতা লাভ। ১৫ আগস্ট রাতে স্বাধীন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু বলেন, “মধ্যরাতের প্রহরে যখন ঘুমোবে গোটা বিশ্ব, তখন ভারত স্বাধীনতার জন্য জেগে উঠবে”। তাঁর এই কথা যথোপযুক্তভাবে সদ্য স্বাধীন ভারতের সংগ্রাম এবং সুখকে এক আলাদা মাত্রা দিয়েছিল। কারণ অবশেষে ব্রিটিশ শাসনের কবল থেকে নিজেদের মুক্ত করতে সক্ষম হয়েছিল ভারত।
এই দিনটি ছিল ঐতিহাসিক। এই দিন উপলক্ষে দিল্লির লাল কেল্লার লাহোরি গেটের উপরে ভারতের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেছিলেন জহরলাল নেহেরু। প্রতিবছর ১৫ আগস্ট ভারতের স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করা হয়ে থাকে, এই পতাকা উত্তোলন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে। সঙ্গে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং ভারতীয় জাতীয় সংগীত গাওয়ার মাধ্যমে সারাদেশে ব্যাপকভাবে উৎসাহ সহকারে পালিত হয় এই দিন। এই বছর ৭৫ তম স্বাধীনতা দিবস পালন করবে গোটা দেশ। কিন্তু এই দিনটির ইতিহাস অনেকেরই অজানা। ফিরে দেখা যাক সেই ইতিহাস।
সাল ১৭৫৭, পলাশীর যুদ্ধে বিজয়ের পর ভারত ২০০ বছরের জন্য ব্রিটিশ উপনিবেশিকদের দ্বারা নিপীড়নের শিকার হয়েছিল। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ভারতে শাসন চালায় প্রায় ১০০ বছর। তারপর ১৮৫৭ সালে শিপাহী বিদ্রোহের পর ব্রিটিশ সরকার ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি থেকে ভারতকে শাসন করার ক্ষমতা ছিনিয়ে নেয়। ব্রিটিশ শাসন দেশে ব্যাপক ভাবে বিদ্রোহের জন্ম দেয়। তখন থেকেই ভারতকে স্বাধীন করার চেষ্টায় লেগে পড়ে স্বাধীনতা সংগ্রামীরা। শুরু হয় স্বাধীনতা আন্দোলন। অবশেষে ব্রিটিশ উপনিবেশিকদের দেশ থেকে বের করে দেওয়া হয়।
এরপর ১৯৪৮ সালের ৩০ জুন ক্ষমতা ছিনিয়ে নেওয়া হয় ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর থেকে। ক্ষমতা দেওয়া হয় লর্ড মাউন্টব্যাটেনের হাতে। এদিকে যদি ১৯৪৮ সালের জুন মাস পর্যন্ত লর্ড মাউন্টব্যাটেন অপেক্ষা করতেন, তাহলে চক্রবর্তী রাজাগোপালাচারীর কথায়,’ক্ষমতা হস্তান্তরের কোন সুযোগ থাকত না’। কিন্তু মাউন্টব্যাটেন তারিখটি অগ্রসর করে আনেন ১৯৪৭ সালের আগস্ট মাসে। স্বাধীনতা দিবসের দিনটি মানুষের কাছে দেশবিভাগের দিন হিসেবে স্মরণীয়। এই দিন সাম্প্রদায়িক ভিত্তিতে দেশ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে এবং ব্যাপক রক্তপাত, সহিংসতা ঘটে।

স্বাধীনতা দিবসের মূল তাৎপর্যপূর্ণ কারণ হলো, এটি ব্রিটিশ শাসন থেকে জাতির স্বাধীনতার জন্য লড়াই করা মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্ব এবং চেতনার স্মরণে। এটি জাতীয় গৌরবের দিন। সম্মানের দিন। প্রতিবছর প্রধানমন্ত্রীরা লাল কেল্লা থেকে পতাকা উত্তোলন করে থাকেন এই দিনে এবং দেশকে সম্বোধন করে থাকেন। এমনকি স্বাধীনতা দিবসের একদিন আগে দেশের রাষ্ট্রপতি টেলিভিশনে জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন।
সারাদেশে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, কুচকাওয়াজ এবং পতাকা উত্তোলন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই ঐতিহাসিক দিনটি পালিত হয়। তবে এই বছরটা বাকি অন্য বছরের থেকে আলাদা। এই বছর সারা দেশে থাবা বসিয়েছে করোনা মহামারী। চলছে প্যানডেমিক। সামাজিক দূরত্ব, সুরক্ষা, নির্দেশিকা বজায় রেখে এই বছর পালন হবে এই ঐতিহাসিক দিন।





