রাতের পার্কে আপনা আপনি দুলছে ব্যায়ামের সরঞ্জাম, তদন্তে নেমে রহস্য ফাঁস ঝাঁসি পুলিশের

লকডাউনে গৃহবন্দি অবস্থায় এখন মানুষের অনেকটা সময়ই ব্যয় হচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। তাই আগে যে পোস্ট হয়তো কম লাইক শেয়ার হত কিন্তু এখন সেই পোস্টই রীতিমতো ভাইরাল হচ্ছে। অবশ্য কিছু পোস্ট রয়েছে যেগুলো ভাইরাল হওয়ার মতই। যেমন দিন দুই ধরে এক ভুতুড়ে ভিডিও ঘুরে বেড়াল নেট পাড়ায়।

কি রয়েছে সেই ভিডিওতে?

দেখা যাচ্ছে, একটা জনশূন্য পার্কে দুলে চলেছে ব্যায়ামের যন্ত্রপাতি। আশেপাশে কোনও মানুষ নেই।

https://twitter.com/jhansipolice/status/1271646518521413632?s=19

এই ভৌতিক ভিডিও নিয়েই সোশ্যাল মিডিয়ায় হইচই পড়ে যায়। দিনভর চলে জল্পনা তবে কি এটা সত্যিই ভূতের কান্ড?

যদিও পরে রহস্য ফাঁস করে দিল পুলিশ। জানা গেল ভূত নয়, কোনও মানুষেরই কাজ এটা।

https://twitter.com/upcoprahul/status/1271503301947699200?s=09

উত্তর প্রদেশের ঝাঁসি শহরের অবাক করা এই ভিডিয়ো সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করার পরে শোরগোল পড়ে গিয়েছিল নেট দুনিয়ায়। কিন্তু পরে ঝাঁসি পুলিশ সত্যিটা ফাঁস করতে উত্তেজনায় জল পড়ে যায়।

তারা প্রথম থেকেই সন্দেহ করেছিলেন যে এটা ভূত না, কোন মানুষেরই কারসাজি। সেই মত রাতে অনুসন্ধান চালিয়ে ভৌতিক কাণ্ডের পিছনে দুষ্কৃতীদের ফন্দি ধরে ফেলেছেন গোয়েন্দারা। আর তার পরে সেই সোশ্যাল মিডিয়াতে পুলিশ ঘোষণা করেছে, ‘ভূত-টূত সব গুজব’।
সোশ্যাল মিডিয়ার প্রচার দেখে রাতে ওই পার্কে হানা দিয়েছিলেন গোয়েন্দারা।
তদন্তের পরে জানা গিয়েছে, ব্যায়ামের সুইংয়ে অতিরিক্ত পরিমাণে গ্রিজ মাখানোর ফলে একবার তাকে নাড়িয়ে দিলে বেশ কয়েক সেকেন্ড নিজে থেকেই ওঠানামা করে। সেই সময় কেউ ভিডিয়ো তুললে দর্শকের মনে বিশ্বাস তৈরি হতে বাধ্য যে, কোনও সাহায্য ছাড়াই কাজ করছে জিমের যন্ত্র। এভাবেই কেউ বোকা বানিয়েছে পুরো নেটদুনিয়াকে।

গোয়েন্দাগিরি কৌশল ধরে ফেলার পর বিষয়টা নিয়ে আরেকটা ভিডিও করেছেন। সেখানে পুরো প্রক্রিয়াটা তাঁরা হাতে কলমে দেখিয়েছেন। এবার দুষ্কৃতীদের খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়েছে। তাদের মনে হচ্ছে যে এই জিম বন্ধ করার জন্য ইচ্ছা করে কেউ এই কাজ করে থাকতে পারে। খোঁজ নেওয়া হচ্ছে, ভূতের গুজব ছড়িয়ে জিম বন্ধ করে দিতে পারলে কার বা কাদের লাভ হতে পারে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া এই ভিডিয়ো নিজের টুইটার হ্যান্ডেলে পোস্ট করে ঝাঁসি পুলিশের শীর্ষকর্তা রাহুল শ্রীবাস্তব প্রশ্ন তুলেছিলেন, ‘ফিটনেসপ্রেমী ভূত? দুষ্কৃতীদের কোনও ভূতুড়ে লকআপে শিগগিরই জায়গা হবে। #NoHostForGhost।’

RELATED Articles

Leave a Comment