দ্বিতীয় দফার লকডাউন চলাকালীনই আজ শুক্রবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক দেশব্যাপী আরও দুই সপ্তাহ লকডাউন বাড়ানোর কথা ঘোষণা করল। তবে তৃতীয় দফার লকডাউন আগের দুইবারের মতো এতটা আঁটোসাঁটো হবে না। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের নির্দেশিকা অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় সরকার করোনা সংক্রমণের হারের ওপর নির্ভর করে দেশকে যে রেড, অরেঞ্জ ও গ্রীন তিন জোনে ভাগ করেছে, সংশ্লিষ্ট জেলা তার মধ্যে কোন জোনে পড়ছে, তা অনুযায়ী সেখানে সেই জেলায় তৃতীয় দফার লকডাউন কতটা কঠোর হবে তা নির্ভর করবে। তবে প্রত্যেক সপ্তাহে এই তিন ভাগের বিভক্ত জোনে কতটা পরিবর্তন এল তা আপডেট করা হবে।
https://twitter.com/PIBHomeAffairs/status/1256214559897071622?s=20
এবার দেখে নেওয়া যাক জোন অনুযায়ী এই তৃতীয় দফার লকডাউনে কী কী পরিষেবা চালু থাকছে।
রেড জোন- যে জেলাগুলিতে মোট সক্রিয় রোগীর সংখ্যা এবং রোগীর সংখ্যা দ্বিগুণ হওয়ার হার ইত্যাদি আশঙ্কাজনকভাবে বেশি। রেড জোন হলেও তৃতীয় দফার লকডাউনে অনেক কিছুই চালু করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। গ্রামীণ অঞ্চলে ১০০ দিনের কাজ, খাদ্য-প্রক্রিয়াকরণ, ইট-ভাটা-সহ সমস্ত শিল্প ও নির্মাণ কার্যক্রম চালু হবে। গ্রামাঞ্চলে শপিংমল ব্যতীত সবরকম পণ্যর সমস্ত দোকান খোলা হবে। ফসল বপন, ফসল সংগ্রহ থেকে শুরু করে তা বাজারজাত করা পর্যন্ত কৃষি সরবরাহ শৃঙ্খলের সমস্ত কাজ অনুমোদিত হবে। মৎসচাষ-সহ পশুপালনের সব কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে অনুমোদিত। প্রক্রিয়াকরণ এবং বিপণনসহ গাছ লাগানোর সব ক্রিয়াকলাপ অনুমোদিত। আয়ুশ-সহ সমস্ত স্বাস্থ্য পরিষেবা এমনকী এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সের মাধ্যমে চিকিৎসা কর্মী এবং রোগীদের পরিবহণও চালু হবে।
আর্থিক খাতের একটি বড় অংশ চালু করা হবে, যার মধ্যে রয়েছে ব্যাঙ্ক, নন-ব্যাংকিং আর্থিক সংস্থা বা এনবিএফসি, বীমা ও মূলধন বাজার কার্যক্রম এবং ঋণ সমবায় সমিতিগুলি। শিশু, প্রবীণ নাগরিক, ভবঘুরে, মহিলা এবং বিধবাদের জন্য হোমগুলির পরিচালনার কাজ চালু হবে। অঙ্গনওয়াড়ীদের কাজকর্মের অনুমতিও দেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ, জল, সাফাই, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, টেলিযোগাযোগ এবং ইন্টারনেটের মতো সুবিধাগুলির কার্যক্রম উন্মুক্ত করা হবে। কুরিয়ার এবং ডাক পরিষেবাগুলিও চালু হবে।
রেড জোনে বেশিরভাগ বাণিজ্যিক ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান খোলার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রিন্ট এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়া, আইটি এবং আইটি সমর্থিত পরিষেবাগুলি, ডাটা এবং কল সেন্টার, কোল্ড স্টোরেজ এবং গুদামজাত পরিষেবা, বেসরকারি সুরক্ষা এবং সুবিধা ব্যবস্থাপনার পরিষেবা এবং নাপিত ও কয়েকটি পরিষেবা ব্যতীত স্ব-কর্মসংস্থানযুক্ত ব্যক্তিদের কাজ করার অনুমতি দেওয়া হবে। ওষুধ, ফার্মাসিউটিক্যালস, চিকিৎসা সংক্রান্ত যন্ত্রপাতি, কাঁচামাল এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় পণ্যগুলির উত্পাদন ইউনিট; অবিচ্ছিন্ন প্রক্রিয়া প্রয়োজন এমন উৎপাদন ইউনিট এবং তাদের সরবরাহ শৃঙ্খল এবং সামাজিক দূরত্ব রেখে পাট শিল্প; এবং আইটি হার্ডওয়্যার উত্পাদন এবং প্যাকেজিং উপাদানের উৎপাদন ইউনিট অনুমোদিত হবে।
অরেঞ্জ জোন- যে জেলাগুলি, রেড বা গ্রিন কোনও জোনেই নেই। অরেঞ্জ জোন রেড জোনে অনুমতিপ্রাপ্ত সব কিছুই খোলার অনুমতি থাকবে। সেই সঙ্গে চালু হবে ট্যাক্সি এবং অনলাইন ক্যাব পরিষেবা, তবে শুধুমাত্র ১ জন চালক এবং ১ জন যাত্রী নিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে। শুধুমাত্র অনুমোদিত ক্রিয়াকলাপের জন্যই ব্যক্তি ও যানবাহনের আন্তঃজেলা চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে। চার চাকার গাড়িতে চালকের পাশাপাশি সর্বোচ্চ দু’জন যাত্রী এবং টুহুইলার-এর ক্ষেত্রে চালকের পিছনে যাত্রী নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে।
গ্রীন জোন- যে জেলাগুলিতে করোনা রোগীর সংখ্যা শূন্য, অথবা গত ২১ দিনে নতুন রোগীর সন্ধান মেলেনি। গ্রীন জোনে সমস্ত ক্রিয়াকলাপই অনুমোদিত। তবে করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের ফলে জোন নির্বিশেষে সারা দেশে যে যে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে, সেগুলি গ্রিন জোনে লকডাউন ৩.০-তেও বন্ধ থাকবে। বাস এবং বাস ডিপোগুলি ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ক্ষমতা সহ পরিচালনা করতে হবে। সমস্ত পণ্য পরিবহনের অনুমতি দেওয়া হবে। পার্শ্ববর্তী দেশগুলির সঙ্গে চুক্তির অধীনে আন্তঃদেশিয় বাণিজ্যের জন্য যে পণ্য পরিবহন, তা কোনও রাজ্য বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলই বন্ধ করতে পারবে না। এ জাতীয় চলাচলের জন্য কোনও পৃথক পাসের প্রয়োজনও হবে না।
এবার দেখা যাক তৃতীয় দফার লকডাউনে কী কী বন্ধ থাকবে,
জোন ভিত্তিক বিধিনিষেধ ছাড়া সারা দেশেই কিছু কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকবে। এর মধ্যে রয়েছে বিমান, রেল, মেট্রো এবং আন্তঃরাজ্য সড়ক পরিবহন। স্কুল, কলেজ-এর মতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হোটেল এবং রেস্তোঁরা সহ আতিথেয়তা পরিষেবা, সিনেমা হল, শপিং মল, জিম, স্পোর্টস কমপ্লেক্স-এর মতো বড় জমায়েতের জায়গা, সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক এবং সমস্ত ধরণের সমাবেশ, ধর্মীয় বা উপাসনার সমস্ত স্থান এই তৃতীয় দফার লকডাউনেও বন্ধই থাকছে।





