লকডাউনেই খুলছে কারখানা, ছাড় দেওয়া হচ্ছে কৃষিতেও, তবে স্থগিত থাকছে পরিবহন। নতুন নির্দেশিকা প্রকাশ কেন্দ্রের।

কোভিড-১৯ প্রতিরোধে দেশ জুড়ে লকডাউনের নয়া নির্দেশিকা জারি করল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। বুধবার সকালে প্রকাশিত ওই নির্দেশিকায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক জানিয়েছে, আপাতত দ্বিতীয় দফার লকডাউনের শেষদিন পর্যন্ত বন্ধ থাকবে বাস-ট্রেন-বিমান পরিষেবা। কেবলমাত্র জরুরি পরিষেবার ক্ষেত্রে ছাড় মিলবে। ওই নির্দেশিকায় আর‌ও জানানো হয়েছে, আপাতত বন্ধ‌ই রাখা হচ্ছে স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। তবে, ‘জনগণের কষ্ট লাঘব করতে’ এবং দেশীয় অর্থনীতিকে সচল রাখতে আগামী ২০শে এপ্রিলের পর ছাড় দেওয়া হবে কৃষি, তথ্যপ্রযুক্তি, ই-কমার্স এবং আন্তঃরাজ্য পরিবহণ ব্যবস্থায়।

এ দিনের নির্দেশিকায় আরও জানানো হয়েছে, ‘গ্রামীণ অর্থনীতিকে সচল রাখতে ওই সব এলাকায় যে সমস্ত কলকারখানা রয়েছে বা সেখানকার খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্প, সড়ক নির্মাণ, কৃষিকাজের প্রকল্প, নির্মাণ ও শিল্প প্রকল্প, এমএনআরইজিএ-এর আওতায় কাজ, জল সংরক্ষণের কাজ এবং সাধারণ পরিষেবা দেওয়ার কেন্দ্র খোলা রাখা হবে।’ তবে ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে যাতে সামাজিক দূরত্ব টুকু বজায় রাখা হয়, সে দিকেও নজর রাখতে হবে বলে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।  স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সূত্রে খবর, লকডাউনের সময় এ সব ক্ষেত্রে ছাড়ের ফলে গ্রামীণ অর্থনীতিতে বিশেষত ভিন্‌ রাজ্যের শ্রমিকদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করবে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক আরও জানিয়েছে, আগামী ২০ এপ্রিল থেকে ছাড় মিলবে আন্তঃরাজ্যে পণ্য পরিবহণকারী ট্রাক চলাচলের ক্ষেত্রেও। অপরিহার্য এবং তুলনামূলক ভাবে কম দরকারি— এই দুই ধরনের পণ্য পরিবহণের ওই ছাড় দেওয়া হবে। ওই পণ্যসামগ্রী নিয়ে এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে ট্রাক যাতায়াতের সময় তাতে যান্ত্রিক ত্রূটি দেখা দিলে যাতে তা সারানো সম্ভব হয় সেই দিকেও নজর দিয়েছে সরকার।

এর ফলে আগামী সোমবার, ২০ এপ্রিল থেকে খুলছে ট্রাক সারানোর দোকানগুলিও। সেই সঙ্গে ওই দিন থেকে রাস্তার ধারের ধাবাগুলিও খোলার অনুমতি দিয়েছে কেন্দ্র। সরকারি কাজের জন্য যে সব কলসেন্টার কাজ করে, তা-ও খোলার অনুমতি পাবে আগামী সোমবার থেকে। সেই সঙ্গে ওষুধ ও মেডিক্যাল যন্ত্রপাতি প্রস্তুতকারী কলকারখানাও খোলা যাবে বলে জানানো হয়েছে ওই নির্দেশিকায়। প্রয়োজনীয় পণ্য উৎপাদনকারী ইউনিট, আইটি হার্ডওয়্যার এবং প্যাকেজিং করার কারখানাগুলিও খোলার কথাও জানানো হয়েছে। ছাড় দেওয়া হবে কয়লা উৎপাদন, তেল ও মিনারেল প্রস্তুতকারী ইউনিটগুলিকেও।

এ দিনের নির্দেশিকা অনুযায়ী, দুগ্ধ সরবরাহ, দুগ্ধজাত দ্রব্য, পোলট্রি এবং পশুপালনেও ছাড় দেওয়া হবে। সেই সঙ্গে চা, কফি এবং রাবার প্ল্যান্টগুলিও খোলা হবে। পরিষেবা ক্ষেত্র এবং ই-কমার্সের গুরুত্বের কথা স্বীকার করে করে কেন্দ্র জানিয়েছে, তথ্যপ্রযুক্তি এবং তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর পরিষেবা চালু করার পাশাপাশি অনলাইনে শিক্ষাদান এবং তার মাধ্যমে দূরশিক্ষার ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার ২১ দিনের লকডাউনের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু, গত কাল সকালে জাতির উদ্দেশে ভাষণে ৩রা মে পর্যন্ত লকডাউনের মেয়াদ বৃদ্ধির কথা ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এর পর এ দিনের নির্দেশিকায় বেশ কিছু ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হলেও সব সময়ই সামাজিক দূরত্ব বজার রাখার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। দেশ জুড়ে আগামী ৩ মে পর্যন্ত সিনেমা হল বা অন্যান্য বিনোদন কেন্দ্রের পাশাপাশি বন্ধ থাকবে শপিং মল। এ ছাড়া, প্রার্থনার জন্য জমায়েতও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কর্মস্থল ও রাস্তায় মাস্ক বা মুখাবরণ পরা বাধ্যতামূলক করা ছাড়াও জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ‘হটস্পটে’ প্রবেশ করা যাবেনা বলে নির্দেশিকায় জানিয়েছে কেন্দ্র।

RELATED Articles

Leave a Comment