মোবাইল ডেটার দাম বাড়ানো হবে ১০ গুণ, সুপারিশ সমস্ত টেলিকম সংস্থাগুলির

ইন্টারনেট ছাড়া আজকাল দিন চলে নাকি? ঘুম ভাঙে নোটিফিকেশন এর টোনে, ঘুমাতে যাই ‘গুড নাইট’ জিফ হোয়াটসঅ্যাপে পাঠিয়ে। ফেসবুকে সেলফি আপলোড করার জন্য এডিটিংটাও করি ফোনে। শুধু কি তাই? সমস্ত অফিসিয়াল কাজ সম্পন্ন করি যে ল্যাপটপ বা ডেস্কটপ কম্পিউটারে, সেখানেও তো নেট লাগে। একদিন নেট পরিষেবার গন্ডগোল হলেই হাহাকার পড়ে যায় গোটা বিশ্বে। ভারতে টেলিকম জগতে বিপুল পরিবর্তন ঘটার পর ডেটা পরিষেবা হয়েছে আরও সস্তা। মানুষ এখন সহজেই কিনতে পারে বিভিন্ন ডেটা প্যাকেজ।

ভারতে এখন ডেটার দাম প্রতি জিবি প্রায় ৪ টাকা। সেখানে আন্তর্জাতিক দুনিয়ায় দাম প্রতি জিবিতে প্রায় ৬৫০ টাকা। যার ফলে সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে বিভিন্ন কোম্পানিকে। বর্তমানে ভোডাফোন-আইডিয়ার মতো নামী সংস্থাগুলি ঋণের বোঝায় জর্জরিত। এরই প্রতিকার হিসাবে টেলিকম সংস্থাগুলি প্রতি জিবি ডেটার দাম বাড়াবার সুপারিশ করেছে। সংস্থাগুলির দাবি ডেটা মূল্য বাড়িয়ে একটি ফ্লোর রেট নির্ধারণ করা হোক। তাদের বক্তব্য, মোবাইল ডেটার জন্য ফ্লোর রেট নির্ধারণ করা হোক। ফলস্বরূপ সব সংস্থাই এই ন্যূনতম দাম ঠিক করতে পারবে ডেটা প্যাকের। কোনো ফ্লোর রেট না থাকার কারণে নিজেদের সিদ্ধান্তমত ডেটা প্যাকের দাম ঠিক করে, সস্তায় ডেটা বিক্রি করতে একরকম বাধ্য হয় তারা। তাতে আখেরে লোকসান হচ্ছে তাদেরই।

এই কারণে তারা TRAI এর কাছে একটি ফ্লোর রেট নির্দিষ্ট করার আবেদন জানিয়েছে। ভোডাফোনের সুপারিশ, প্রতি জিবি ডেটার দাম করা হোক ৩৫ টাকা, এয়ারটেলের দাবি প্রতি জিবি ৩০ টাকা এবং রিলায়েন্স জিও চাইছে ফ্লোর রেট নির্ধারিত হোক প্রতি জিবি ২০ টাকা করে।

এই বিষয়ের পক্ষে নীতি আয়োগের প্রধান অমিতাভ কান্ত সওয়াল করে বলেছেন, “দেশের টেলিকম পরিষেবা ক্ষেত্র ঋণের ভারে জর্জরিত, এই পরিস্থিতি থেকে উদ্ধার পেতে চালু করা হোক ফ্লোর রেট।” তবে তিনি আরও জানিয়েছেন যে শুধু এই রেট চালু করলেই সমস্যা মিটবে না, আরও কিছু আনুষঙ্গিক ব্যবস্থাও গ্রহণ করতে হবে।

এখন এই সুপারিশ যদি কেন্দ্রীয় সরকার মেনে নেয়, তবে মোবাইল ডেটার দাম বেড়ে যাবে প্রায় ১০ গুণ। তাতে বিপাকে পড়বে সাধারণ গ্রাহকরাই।

RELATED Articles

Leave a Comment