প্রাণ প্রতিষ্ঠার ১১ দিনের মাথায় রামমন্দিরের অনুদান ১১ কোটি, রামলালাকে উজাড় করে দিচ্ছেন ভক্তরা, ভরে উঠছে রামমন্দিরের রাজকোষ

অযোধ্যার রামমন্দিরের উদ্বোধনের পর ১১ দিন কেটেছে। এই ১১ দিনে রামলালার দর্শনে অয্যোধ্যায় এসেছেন প্রায় ২৫ লক্ষ ভক্ত। রামলালার জন্য অনুদানে ভরে দিয়েছেন তারা। ১১ দিনের মাথায় রামমন্দিরের অনুদান ১১ কোটি। আগামী দিনে সেই অঙ্ক আরও বাড়বে বলেই অনুমান উত্তরপ্রদেশে প্রশাসনের।

রামমন্দির ট্রাস্টের তরফে জানানো হয়েছে যে গত ১১ দিনে রামমন্দিরে সব মিলিয়ে ১১ কোটিরও বেশি অনুদান জমা পড়েছে। নগদেই জমা পড়েছে ৮ কোটি। আর বাকি জমা পড়েছে চেক ও অনলাইন মাধ্যমে। রামমন্দির উদ্বোধনের আগেই অনুদান দিতে শুরু করেছিলেন ভক্তরা। এর জন্য মন্দিরে রাখা হয়েছে চারটি দানপত্র। এছাড়াও চেক ও অনলাইনে অনুদান জমা দেওয়ার জন্য রয়েছে ১০টি কাউন্টার। 

নির্দিষ্ট সময়ের পর বন্ধ হয়ে যায় কাউন্টার। এরপর শুরু হয় অনুদানের অর্থ গোনার কাজ। মন্দিরের ১৪ জন, ব্যাঙ্কের ১১ জন কর্মী সহ ট্রাস্টের ৩ জন কর্মী মিলে অনুদান পাওয়া অর্থ গোনেন। সিসিটিভি ক্যামেরার নজরদারিতেই গোটা কাজটা হয়। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় মন্দিরের অনুদান বাক্সের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছিল। সেই ভিডিওতে দেখা গিয়েছিল, কীভাবে রামমন্দিরের বিপুল অনুদানের অর্থ গোনা হয়।  

এই বিষয়ে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ বলেন, “পরের কয়েকদিনে আবহাওয়ার উন্নতি হবে, ঠান্ডা কমবে। তাতে রামমন্দিরে ভক্তের সংখ্যা আরও বাড়বে”। জানা গিয়েছে, উত্তরপ্রদেশ প্রশাসন পুণ্যার্থীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থাও করবে। আগামী দিনে এই অনুদানের অঙ্কটা আরও বাড়বে বলেই অনুমান প্রশাসনের।

রামমন্দির ট্রাস্টের তরফে জানানো হয়েছে, রামলালাকে প্রায় ১৫ কেজি সোনা, ১৮ হাজার পান্না ও হিরের গয়না পরানো হয়েছে। প্রত্যেক গয়নায় চুনি, মুক্তো দিয়ে নকশা করা। রামলালার গায়ে রয়েছে চার রকম মণিহার, কোমরবন্ধবী, দুই বাহুতে বাহুবন্ধ, দু’হাতের স্বর্ণবালা, কানের দুল এবং আঙুলে বড় সোনা-হিরের আংটি। গলায় রয়েছে বিজয়মালা বা বৈজয়ন্তী মালা। রামলালার সোনার মুকুটে হিরে, চুনি, পান্না দিয়ে নকশা করা। সোনার সূর্যদেব মুকুটের ঠিক মাঝখানে খোদাই করা রয়েছে।

বলে রাখি, উদ্বোধনের পরদিনই ভক্তদের জন্য খুলে দেওয়া হয় রামমন্দিরের দ্বার। সেদিনই রামলালার দর্শন করেছেন ৫ লক্ষ পুণ্যার্থী। প্রথম দিনেই অনুদানের মাত্রা পৌঁছেছিল ৩ কোটি ১৭ লক্ষতে। নগদ ও অনলাইন, দুই মাধ্যমেই জমা পড়েছিল সেই অনুদান।  

RELATED Articles