পুরোনো মামলাগুলিতে টোকা দিতে শুরু করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলি! ক্রমে কোণঠাসা তৃণমূল

ইদানিং বেশ অস্বস্তিতে রয়েছে রাজ্যের শাসকগোষ্ঠী। চলতি সপ্তাহে একের পর এক ঘটনায় বেশ কিছুটা হলেও কোণঠাসা হয়ে পড়েছে পশ্চিমবঙ্গের শাসকদল তৃণমূল (TMC)। পুরোনো কিছু মামলা, যার সঙ্গে শাসকদলের কেউ না কেউ জড়িত, সে সমস্ত দরজায় ২১শের মহাযুদ্ধের আগেই টোকা দিতে শুরু করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলি। তৃণমূল শিবিরের মতে চলতি সপ্তাহে তদন্তকারী সংস্থাগুলির এই উদ্যমের পিছনে হাত রয়েছে বিরোধী দল বিজেপি’র (BJP) রাজনৈতিক প্রতিশোধস্পৃহা।

গত ২৪শে আগস্ট নারদা কাণ্ডে ইডির তরফে তৃণমূলের ৫ নেতা-নেত্রীকে নোটিশ পাঠানো হয়। তৃণমূলের সাংসদ সৌগত রায়, ডাঃ কাকলি ঘোষ দস্তিদার, প্রাক্তন সাংসদ আফরিন অপরূপা পোদ্দার, রাজ্যের মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও কলকাতা পুরসভার প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়ের স্ত্রী রত্না চট্টোপাধ্যায়কে পাঠানো নোটিশে ইডি–র (Enforcement Directorate) নির্দেশ, তাঁদের প্রত্যেককে নিজের এবং পরিবারের সম্পত্তির হিসেব, আয়–ব্যয়ের নথি ও ব্যাঙ্ক স্টেটমেন্ট ৫ দিনের মধ্যে জমা দিতে হবে।

এর পরেই বিগত ২৬ ও ২৭শে আগস্ট পরপর দু’‌দিন বেশ তৎপরতা দেখা যায় সিবিআইয়ের কলকাতা অফিসে। নারদা কাণ্ড ছাড়াও সারদা, রোজ ভ্যালি, এমপিএস গ্রুপের মতো কোটি টাকার চিট ফান্ড কেলেঙ্কারির তদন্ত করছে সিবিআই। এবার তারাই তাদের অভ্যন্তরীন সংগঠন আরও শক্ত করল। নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক এক সিবিআই আধিকারিক জানিয়েছেন, বুধ ও বৃহস্পতিবার পুলিশ সুপারের পদমর্যাদার ২ কর্মকর্তা দিল্লি থেকে উড়ে এসে কলকাতায় কাজে যোগ দিয়েছেন।

আবার এক‌ই সঙ্গে, ২৮শে আগস্ট এনআইএ কর্তাদের জেরার মুখে পড়েন বর্তমানে তৃণমূলের রাজ্য কমিটির অন্যতম সম্পাদক ছত্রধর মাহাতো। এক দশকেরও বেশি পুরোনো জোড়া মামলায় তাঁকে দফায় দফায় জেরা করেন তদন্তকারী আধিকারিকরা। একদা জঙ্গলমহলে মাওবাদী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছত্রধর মাহাতোর নাম জড়িয়ে রয়েছে ২০০৯ সালের ভুবনেশ্বর–দিল্লি রাজধানী এক্সপ্রেস হাইজ্যাকের ঘটনার সঙ্গে।

ইডি-র (Enforcement Directorate) এই চারদিনের ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ মোটেই সুন্দর দৃষ্টিতে দেখছে না তৃণমূল নেতৃত্ব। এই সপ্তাহে তাঁদের সমস্ত প্রকাশ্য বিবৃতি, বিরোধী রাজ্যগুলির মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) অভিযোগ করেছেন যে, বিরোধী দলগুলিকে চাপে ফেলার জন্য কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলিকে ব্যবহার করছে বিজেপি।

RELATED Articles

Leave a Comment