সোমবার হরিয়ানার এক প্রত্যন্ত গ্রাম আম্বালায় এক বৃদ্ধার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে পরিস্হিতি উত্তাল হয়ে ওঠে। মৃত প্রৌঢ়ার করোনা হয়েছে এই সন্দেহে গ্রামবাসী তার শেষকৃত্যে বাধা দেয়। পরিস্হিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছালে তাঁরাও আক্রান্ত হন এবং উপস্হিত চিকিৎসকরাও আক্রান্ত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শূন্যে গুলি চালায় পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই মৃত বৃদ্ধার দীর্ঘদিন ধরেই হাঁপানি ছিল।কিন্তু সম্প্রতি তাঁর শ্বাসকষ্ট বেড়ে যায়। পরিবারের সদস্যরা তাঁকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করেন কিন্তু নিয়ে যাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি মারা যান। তাঁর দেহ থেকে লালারসের নমুনা সংগ্রহ করে করোনা পরীক্ষার জন্য পাঠানোও হয়েছে। কিন্তু রিপোর্ট এখনো এসে পৌঁছায়নি। এরপর মরদেহ সৎকারের জন্য তুলে দেওয়া হয় জেলা প্রশাসনের হাতে। করোনায় সংক্রামিতদের জন্য যে স্থান বরাদ্দ আছে সেখানে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন করার প্রস্তুতি চলে। এমন সময় সেখানকার গ্রামবাসীরা শ্মশানে হাজির হয়।
করোনা পরীক্ষার ফল এখনো আসেনি তার আগেই সবাই তাকে করোনা আক্রান্ত ধরে নেন। এরপরই তাঁর দেহ সৎকারে বাধা দেন তাঁরা। পরিস্হিতি রণক্ষেত্র হয়ে উঠলে খবর দেওয়া হয় পুলিশ প্রশাসনকে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ গেলে পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যায়। পুলিশকে দেখা মাত্রই তাঁরা ইটবৃষ্টি করতে শুরু করেন। হামলা চলে চিকিৎসকদের ওপরেও। আম্বালা ক্যান্টনমেন্টের ডিএসপি রাম কুমার বলেন, “আমরা গ্রামবাসীদের অনেক বোঝানোর চেষ্টা করেছি যে এতে ভয়ের কিছু নেই। প্রশাসন আগে থেকে ব্যবস্থা করেছেন রোগ যাতে না ছড়ায়। কিন্তু গ্রামবাসীদের শান্ত করা সম্ভব হয়নি। তারা আমাদের কোনো কথাই শোনেনি।”
এরপরেই উত্তেজিত গ্রামবাসীদের ছত্রভঙ্গ করতে শূন্যে গুলি চালায় পুলিস। ঘটনায় কয়েকজনকে গ্রেফতারও করা হয়েছে। সরকারি কাজে বাধা দেওয়া ও পুলিশের ওপর হামলা-সহ একাধিক ধারায় তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়েছে।





