রাজস্থানের কংগ্রেস সরকার এবার পতনের মুখে? সেখানকার সাম্প্রতিক পরিস্থিতি তো সেরকমই ইঙ্গিত দিচ্ছে। গতকাল মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলট যখন বিজেপির বিরুদ্ধে তাঁর সরকার ফেলে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করার অভিযোগ আনলেন তখনও বোঝা যায়নি পরিস্থিতি এতটা গুরুতর। অনেকেই মনে করছিলেন, রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী স্রেফ দলের বিধায়কদের একত্রিত করার চেষ্টা করছেন।
কিন্তু গতকাল বিকাল থেকে রাজস্থানে এমন সব ঘটনা ঘটে চলেছে যাতে মনে হচ্ছে যে, মরু রাজ্যে কংগ্রেস সরকার সত্যিই পতনের মুখে। গতকাল রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী সাংবাদিক বৈঠকের পরেই রাজস্থানের তিনজন নির্দল বিধায়ক এর বিরুদ্ধে সরকার চেষ্টার অভিযোগ এনে সরকারের দুর্নীতি দমন শাখা তদন্ত শুরু করল। কিন্তু খাতায়-কলমে এই তিনজন নির্দল বিধায়ক কংগ্রেস সরকারকে সমর্থন করছেন।
আবার গতকাল রাতে মুখ্যমন্ত্রী মন্ত্রিসভার জরুরি বৈঠক ডাকলেন কিন্তু সেই বৈঠকেই গেলেন না রাজ্যের উপমুখ্যমন্ত্রী তথা প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শচীন পাইলট। সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল শচীন পাইলট তাঁর রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর ডাকা জরুরি বৈঠকে না গিয়ে চলে এলেন দিল্লিতে এবং তাঁর সঙ্গে এলেন তাঁর অনুগামী প্রায় ২৫ জন বিধায়ক।
জানা গিয়েছে যে তিনি দিল্লিতে কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে দেখা করতে এসেছেন। শচীন পাইলট এর ঘনিষ্ঠ সূত্র মারফত জানা গিয়েছে যে, তিনি রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলটের কাজকর্মে একেবারেই সন্তুষ্ট নন। পাইলট ঘনিষ্ঠরা বলছেন, তাঁদের সঙ্গে বিমাতৃসুলভ আচরণ করা হচ্ছে। আরেকটি বড় খবর হল, যে তিনজন নির্দল বিধায়কের বিরুদ্ধে রাজস্থান সরকারের দুর্নীতি দমন শাখা তদন্ত শুরু করেছে তারাও দিল্লি এসেছেন পাইলটের সঙ্গে। সূত্র মারফত জানা গিয়েছে যে যদি শচীন পাইলট ও তাঁর অনুগামীরা সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে সাক্ষাৎ না করতে পারেন তবে তাঁরা রাজস্থান সরকার থেকে সমর্থন সরিয়ে নিতে পারেন।
অর্থাৎ সম্ভবত মধ্যপ্রদেশের মত রাজস্থানেও একই কাণ্ড হতে চলেছে। রাজস্থানেও সরকার গঠনের প্রক্রিয়ায় কংগ্রেস শুরু থেকেই ভুল করেছে। শচীন পাইলট এর নেতৃত্বে দল নির্বাচনে গেলেও মুখ্যমন্ত্রী করা হয় সিনিয়র সিটিজেন অশোক গেহলটকে। তখন থেকেই অসন্তুষ্ট ছিলেন শচীন পাইলট। মধ্যপ্রদেশে সিন্ধিয়া দল ছেড়েছিলেন। এবার সেই পথেই হাঁটতে চলেছেন শচীন পাইলট ,মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। যদিও শচীন পাইলটের এই পদক্ষেপ কংগ্রেসের জন্য একদমই হিতকর হবে না।





