বারবার আক্রমণের মুখে রক্ষাকারীরা, আর কবে মানবিক হবে দেশ?

সন্দেহভাজন করোনা-আক্রান্তদের নিতে আসা পুলিশ, চিকিৎসক সহ স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর পাথরবৃষ্টির ঘটনা ঘিরে রণক্ষেত্র হয়ে উঠল উত্তরপ্রদেশের মোরাদাবাদ। ছাড় পায়নি অ্যাম্বুলেন্সও। গুলি চালানোর অভিযোগ‌ও, ওঠে। হামলাকারীদের বিরুদ্ধে জাতীয় নিরাপত্তা আইনে রুজু করা হয়েছে মামলা।

মোরাদাবাদের হাজি নেব মসজিদ এলাকার ওই ঘটনাকে ঘিরে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে তোলপাড়। ভিডিওতে দেখা গেছে, শয়ে শয়ে হামলাকারী জড়ো হয়ে স্বাস্থ্যকর্মী ও পুলিশদের ওপর পাথরবৃষ্টি করছে। মহিলারাও বাড়ির ছাদ থেকে পাথর ও অন্যান্য জিনিস ছুঁড়ছে বলে অভিযোগে।

https://twitter.com/ANINewsUP/status/1250341255000625161

খবরে প্রকাশ, সম্প্রতি এক কোভিড-১৯ পজিটিভ রোগী সেখানে মারা যান। এদিন, মৃতের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে যেতেই সেখানে পৌঁছন স্বাস্থ্যকর্মীরা। সদস্যদের অ্যাম্বুলেন্সে তুলে যখন তাঁরা কোয়ারান্টিন সেন্টারের দিকে ফিরছিলেন, তখনই পথ আটকে তাঁদের ওপর পাথরবৃষ্টি শুরু হয়।

https://twitter.com/ANINewsUP/status/1250382664936206337

মেডিক্যাল টিমের এক সদস্য বলেন, মৃতের পরিবার আসতে রাজি ছিলেন। কিন্তু স্থানীয়রা তাঁদের নিয়ে যেতে বাধা দেয়। শয়ে শয়ে হামলাকারী পুলিশের সঙ্গে তর্কাতর্কি শুরু করে। তারাই পরে পাথর ছোড়ে। ভাঙচুর করা হয় অ‍্যা্ম্বুলেন্স‌ও।

এই ঘটনাকে অমার্জনীয় অপরাধ বলে উল্লেখ করেছেন উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। ঘটনার গুরুত্ব বিচার করে তিনি জানান, হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে বিপর্যয় মোকাবিলা আইন ও জাতীয় নিরাপত্তা আইনের ধারায় যথাযথ ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে। যোগী আরও জানান, সরকারি সম্পত্তি নষ্টের অর্থও দোষীদের থেকে আদায় করা হবে। পরে, মোরাদাবাদের পুলিশ সুপারও জানান, মহামারী আইন, বিপর্যয় মোকাবিলা আইন ও জাতীয় নিরাপত্তা আইনে মামলা হবে।

এর আগে, মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরে একইভাবে করোনা-আক্রান্তদের স্ক্রিনিং করতে যাওয়া নার্সদের ওপর পাথর ছোঁড়ে স্থানীয় জনতা। পাঞ্জাবে হাত কেটে নেওয়া হয় পুলিশের। এই দেশে রক্ষাকারীরা কতটা সুরক্ষিত প্রশ্ন থেকেই যায়।

RELATED Articles

Leave a Comment