করোনায় জেরবার মহারাষ্ট্র। তবে এর মধ্যে মহারাষ্ট্র সরকারের কপালে ভাঁজ ফেলেছে পালাঘরের একটি ঘটনা। গত শুক্রবার গড়চিঞ্চোলী গ্রামে ৩ জনকে পিটিয়ে মারে বিক্ষুব্ধ জনতা। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত গ্রেফতার করা হয়েছে শতাধিক মানুষকে। এদের মধ্যে ১০১ জনকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
https://twitter.com/abhijitmajumder/status/1251858483219009536
পুলিশ সূত্রে খবর, গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে গড়চিঞ্চোলী গ্রাম দিয়ে একটি গাড়ি যাওয়ার সময় সেটিকে নিয়ে গুজব রটে। মুহুর্তে খবর ছড়িয়ে পড়ে গাড়িতে রয়েছে ছেলেধরার দল। এঁরা ছেলেধরা এবং শিশুদের শরীরে কিডনি সহ অন্যান্য অঙ্গপ্রতঙ্গ পাচার করে। এরপরেই গাড়িতে থাকা ৩ জনের উপর শুরু হয় গণপিটুনি। ২ সাধু ও গাড়ির চালককে বেধড়ক মারধর করা শুরু করেন গ্রামবাসীরা। এঁদের মধ্যে একজন সাধু ছিলেন সত্তোরোর্ধ। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এলে তাদেরকেও আক্রমণ করে ক্ষিপ্ত জনতা। পুলিশের সামনেই লাঠি দিয়ে পিটিয়ে মারা হয় দুই সন্ন্যাসী সহ ওই ড্রাইভারকে। রবিবার একটি ভিডিও প্রকাশ্যে আসায় এই ঘটনা জানতে পারে পুলিশ। ঘটনায় আহত হন বেশ কয়েকজন পুলিশকর্মীও।
ওই দুই সন্ন্যাসী সুরাটে তাঁদের গুরুর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় যোগ দিতে যাচ্ছিলেন বলে জানা যাচ্ছে। স্থানীয় কাসা পুলিশ থানায় ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে এবং এর পেছনে প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করার চেষ্টা হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যাচ্ছে, প্রায় ২০০ জন লোক মিলে ঘিরে ধরেছিল তিনজনকে। জানা গিয়েছে, মৃত তিন ব্যক্তির নাম সুশীলগিরি মহারাজ (৩৫), নীলেশ তেলগনে (৩৫) এবং চিকনে মহারাজ কল্প বৃক্ষ গিরি (৭০)। উন্মত্ত জনতার একাধিক ভাঙচুরের ভিডিও ইতিমধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরে ঘোষণা করেছেন, এই ঘটনা যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে দেখছে রাজ্য সরকার। এই নৃশংস এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত কোনো দোষীই ছাড়া পাবেনা। জানা গেছে, ওই গাড়ির চালক কোনওভাবে পুলিশকে খবর দিতে সক্ষম হন। কিন্তু তাতেও শেষরক্ষা হয়নি। গ্রামবাসীদের বেধড়ক মারে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তিনজনের। পুলিশ সূত্রে খবর, প্রায় ২০০ জন লোক মিলে ঘিরে ধরেছিল এই তিনজনকে। তারপরেই কিডনি চোর সন্দেহে শুরু হয় মারধর।





