মোদীর গুজরাত মডেলেই হবে কাজ। এই কারণে সুশাসন শেখার জন্য গুজরাতে গেল কেরলের বামশাসিত বিজয়নের প্রতিনিধি দল। এই ঘটনাকে ঘিরে বেশ হইচই শুরু হয়েছে রাজনীতির অন্দরে। নরেন্দ্র মোদীর ‘গুজরাত মডেল’ই অনুপ্রেরণা যোগাবে কেরলের বামশাসিত পিনারাই বিজয়নের সরকারকে।
গুজরাতে নানান সরকারি প্রকল্প কীভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে, নানান সরকারি প্রকল্পের সুবিধা সাধারণ মানুষ কীভাবে পাচ্ছে, এসব জানতেই গুজরাতে পৌঁছেছে কেরলের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নের প্রতিনিধি দল। এই দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন রাজ্যের মুখ্যসচিব।
গুজরাট সরকারের দাবী, সব সরকারি প্রকল্পের বাস্তবায়নের জন্য তারা আলাদা করে একটি ‘ড্যাশবোর্ড’ তৈরি করেছে। এ মাধ্যমে সবটা নিখুঁতভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হয়। সেটা ঠিক কীভাবে কাজ করে, তা নিয়েবিস্তারিত খোঁজখবর করতে চাইছে বামশাসিত কেরল।
আসলে গুজরাটে প্রতিনিধি পাঠানোর পিছনে কেরলের বাম নেতারা বলছেন, মতাদর্শগতভাবে তাঁরা ভিন্ন মেরুতে অবস্থান করলে কী হবে, রাজ্য এবং রাজ্যের মানুষের উন্নয়নের প্রশ্নে একে অপরের পরিপূরক হওয়াই যায়। সরকারের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে বাম নেতারা বলেন যে মতাদর্শ কখনও সরকারের উন্নয়নে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না।
তবে কেরল সরকারের এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছে বিরোধী শিবির। কেরল কংগ্রেসের অভিযোগ, সিপিএম এবং বিজেপির মধ্যে যে আঁতাঁত তৈরি হয়েছে, ত বিজয়ন সরকারের এই সিদ্ধান্তে প্রমাণিত। কেরলের বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা কে সুধাকরণ বলেন, সরকার কি রাজ্যে সেই গুজরাট মডেল চালু করতে চাইছে, যে গুজরাট উগ্র হিন্দুত্বের আঁতুড়ঘর। যে গুজরাট সংখ্যালঘুদের রক্ত চুষেছে। সরকারি স্তরে বিজেপি এবং সিপিএমের মধ্যে যে আঁতাঁত তৈরি হয়েছে, তা সরকারের এই সিদ্ধান্তে স্পষ্ট”।
তবে বিজেপির তরফে অবশ্য বামেদের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানানো হয়েছে। কেরল বিজেপির সভাপতি কে সুরেন্দ্রন এক বিবৃতি জারি করে বলেছেন যে বা সরকার বোঝা উচিত যে কেরল মডেল ব্যর্থ হয়েছে। এবার গুজরাত মডেল চালু হওয়া দরকার।






