করোনা প্রতিষেধকের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের জন্য স্বেচ্ছাসেবক খুঁজছে এইমস। জেনে নিন আবেদনের পদ্ধতি

বিশ্বের মধ্যে রাশিয়াই প্রথম নিজেদের তৈরি করোনা প্রতিষেধক এর চূড়ান্ত পর্যায়ে হিউম্যান ট্রায়াল সম্পন্ন করেছে। এবার ভারতও করোনা প্রতিষেধকের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরু করতে চলেছে। আর তার জন্য প্রয়োজন স্বেচ্ছাসেবক। যারা হবেন সুস্বাস্থ্যের অধিকারী। আজ থেকে দিল্লি এইমসে করোনার টিকা কোভ্যাক্সিনের জন্য স্বেচ্ছাসেবকদের নাম নথিভুক্ত করার কাজ শুরু হল। প্রসঙ্গত, গত শনিবারই এইমসের এথিক্স কমিটি করোনার প্রতিষেধক কোভ্যাক্সিনের হিউম্যান ট্রায়ালের অনুমতি দিয়েছে।

আগামী ১৫ই আগস্ট স্বাধীনতা দিবসের দিন জনগণের জন্য করোনা প্রতিষেধক আনতে চায় কেন্দ্রীয় সরকার। তার আগে প্রয়োজন সেই প্রতিষেধকের সঠিক পরীক্ষা এবং তার ইতিবাচক ফলাফল। তাই খুব শীঘ্রই করোনা প্রতিষেধক কোভ্যাক্সিনের হিউম্যান ট্রায়াল শুরু করতে চায় ICMR। উল্লেখ্য, কোভ্যাক্সিন-ই ভারতে তৈরি প্রথম করোনার টিকা, যার হিউম্যান ট্রায়াল হতে চলেছে। এই টিকাটি আইসিএমআর ও ভারত বায়োটেক ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড যৌথভাবে তৈরি করেছে এবং এই করোনা টিকা মানব শরীরে প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ে পরীক্ষার জন্য সবুজ সংকেতও পেয়েছে।

কোভ্যাক্সিনের পরীক্ষার জন্য যে ১২টি সংস্থাকে চিহ্নিত করেছে ইন্ডিয়ান কাউন্সিল ফর মেডিক্যাল রিসার্চ (ICMR), তার মধ্যে একটি হল দিল্লি এইমস। সেখানে দুটি পর্যায়ে মানুষের শরীরে প্রতিষেধক প্রয়োগের জন্য আজ থেকেই স্বেচ্ছাসেবকদের নাম নথিভুক্ত করা শুরু হয়েছে।

প্রথম পর্যায়ে ৩৭৫ জন স্বেচ্ছাসেবীর ওপর এটি প্রয়োগ করা হবে। যার মধ্যে ১০০ জনকে এইমস কর্তৃপক্ষ বেছে নেবে। বাকিরা অন্যত্র এই পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন। তবে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে নাম লেখানোর আগে কয়েকটা বিষয় মাথায় রাখতে হবে।

এইমসের সেন্টার ফর কমিউনিটি মেডিসিনের অধ্যাপক সঞ্জয় রাই জানিয়েছেন,

◆এই কাজের জন্য যাদের বেছে নেওয়া হবে তাঁদের মধ্যে যেন ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কোনো ইতিহাস না থাকে।

◆যারা পূর্বে করোনা আক্রান্ত হননি, তাঁদেরকেই একমাত্র এই পরীক্ষার জন্য বেছে নেওয়া হবে।

◆বয়স হতে হবে ১৮-৫৫-র মধ্যে।

তাই যারা এই পরীক্ষায় স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে যোগ দিতে চান, তাঁরা ctaiims.covid19@gmail.com এই ইমেলের মাধ্যমে বা ৭৪২৮৮৪৭৪৯৯ নম্বরে ফোন বা এসএমএসের মাধ্যমে নাম লেখাতে পারেন।

সঞ্জয় রাই জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবী নিজেদের নাম নথিভুক্ত করিয়েছেন। তাঁদের সোমবার থেকে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা শুরু হবে। তারপর শুরু করা হবে প্রয়োগ।

উল্লেখ্য, শুধু ভারত বায়োটেকই নয় আরও ৬টি সংস্থা করোনার টিকা তৈরির জন্য গবেষণা চালাচ্ছে। যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য, জাইডাস ক্যাডিলা সংস্থার করোনা প্রতিষেধক জাইকোভ-ডি। এই প্রতিষেধকটিও মানব শরীরে পরীক্ষার অনুমতি পেয়েছে।

RELATED Articles

Leave a Comment