চিকিৎসাবিজ্ঞানের(Medical science) বিস্ময়কর যাত্রা প্রতিদিনই আমাদের নতুন নতুন দিগন্তের সন্ধান দেয়। একসময় যেখানে কেবল মানুষের অঙ্গ প্রতিস্থাপনের কথাই সম্ভব বলে মনে করা হতো, সেখানে এখন অন্য প্রাণীর অঙ্গ প্রতিস্থাপনেও সফলতার সন্ধান করছেন বিজ্ঞানীরা। আধুনিক গবেষণা ও প্রযুক্তির হাত ধরে আজ এমন এক চিকিৎসাপদ্ধতির দিকে এগিয়ে চলেছে মানবজাতি, যা হয়তো আগামীদিনে বদলে দেবে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ইতিহাস। কিন্তু এই পথে কতটা চ্যালেঞ্জ রয়েছে, আর কতটা সাফল্যের সম্ভাবনা, তা নিয়েই চলছে এক বিস্তর আলোচনা।
সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ক্ষেত্রে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। প্রথমবারের মতো ‘ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন’ (FDA) শুয়োরের কিডনি মানুষের দেহে প্রতিস্থাপনের জন্য ক্লিনিকাল ট্রায়ালের অনুমোদন দিয়েছে। এটি চিকিৎসা বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। দুটি বায়োটেকনোলজি সংস্থা—ইউনাইটেড থেরাপিউটিকস কর্পোরেশন এবং ইজেনেসিস—এই পরীক্ষার দায়িত্ব পেয়েছে। এই পরীক্ষার লক্ষ্য, ক্রস-প্রজাতির অঙ্গ প্রতিস্থাপনের সম্ভাবনা কতটা কার্যকর এবং নিরাপদ তা বিশ্লেষণ করা।
বিগত সময়ে শুয়োরের অঙ্গ প্রতিস্থাপন নিয়ে প্রচুর গবেষণা হলেও, মানব শরীরের জন্য এটি কতটা উপযোগী তা নিয়ে সন্দেহ ছিল। শুয়োরের জিনে উপস্থিত ‘আলফা জেল’ নামক শর্করা মানব শরীরে গ্রহণযোগ্য নয়, যার ফলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাসের আশঙ্কা থেকে যায়। এই সমস্যা সমাধানে জিনগত পরিবর্তনের মাধ্যমে শুয়োরের কিডনি মানুষের দেহে প্রতিস্থাপন করার উপযোগী করার চেষ্টা চলছে। আকৃতির দিক থেকে শুয়োরের কিডনি অনেকটাই মানুষের কিডনির মতো হওয়ায় এই গবেষণা অনেক বেশি আশার আলো জাগাচ্ছে।
ইউনাইটেড থেরাপিউটিকস কর্পোরেশন জানিয়েছে, প্রথম ধাপে তারা ছয়জন রোগীর দেহে শুয়োরের কিডনি প্রতিস্থাপন করবেন। যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে ডায়ালাইসিসের ওপর নির্ভরশীল। প্রাথমিক পর্যবেক্ষণের ফলাফল আশানুরূপ হলে পরবর্তী ধাপে এই সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে। অন্যদিকে, ইজেনেসিস জানিয়েছে, তারা প্রথমে তিনজন রোগীর উপর পরীক্ষা চালাবে। এরপর পর্যায়ক্রমে আরও বেশি সংখ্যক রোগীকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
আরও পড়ুনঃ শীতের নতুন ছোঁয়া বাংলায়! পারদ পতনের পূর্বাভাস! কি বলছে আবহাওয়া দপ্তর?
চিকিৎসাবিজ্ঞানের এই পরীক্ষার সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয়টি হলো, একসময় যেখানে শিম্পাঞ্জির মতো মানুষের কাছের প্রজাতির অঙ্গ প্রতিস্থাপনেও সাফল্য মেলেনি, সেখানে শুয়োরের মতো দূর প্রজাতির প্রাণীর অঙ্গ প্রতিস্থাপন সম্ভব হতে চলেছে। তবে এর জন্য প্রয়োজন বিজ্ঞানীদের নিরলস প্রচেষ্টা এবং অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়। সাফল্যের ক্ষেত্রে এই পদক্ষেপ চিকিৎসা বিজ্ঞানের ইতিহাসে এক নতুন দিশা দেখাবে।





