শান্তনু সেনকে পদ থেকে সরাতে চেয়ে স্বাস্থ্যভবনে চিঠি আর জি করের আর্থিক দুর্নীতিতে নাম জড়ানো সুদীপ্ত রায়ের, তৃণমূলে ক্ষণিকের অতিথি শান্তনু?

ধীরে ধীরে যেন দলের ক্রমেই কোণঠাসা হয়ে পড়ছেন শান্তনু সেন। এর আগে আর জি কর কাণ্ড নিয়ে মুখ খোলায় তৃণমূলের মুখপাত্রের পদ থেকে সরানো হয়েছিল তাঁকে। আর এবার তাঁকে মেডিক্যাল কাউন্সিল থেকে অপসারণের আর্জি জানিয়ে স্বাস্থ্যভবনে চিঠি দিলেন তৃণমূল চিকিৎসক নেতা তথা মেডিক্যাল কাউন্সিলের সভাপতি সুদীপ্ত রায়। এই আর জি করের দুর্নীতি কাণ্ডে আবার নাম জড়িয়েছিল এই সুদীপ্ত রায়ের।

শান্তনু সেন রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিলের মনোনীত সদস্য। সুদীপ্ত রায়ের অভিযোগ, শান্তনু সেন মেডিক্যাল কাউন্সিলের বেশ কয়েকটি বৈঠকে অনুপস্থিত ছিলেন। কারণ না দেখিয়েই ৩টি বৈঠকে আসেন নি তিনি। এভাবেই ৬টি বৈঠকে যোগ দেন নি শান্তনু। ফলে মেডিক্যাল কাউন্সিলের আইন অনুযায়ী ওই পদটি এখন ফাঁকা। তাই শান্তনু সীনের জায়গায় ওই পদে অন্য কাউকে মনোনীত করার আর্জি জানিয়ে স্বাস্থ্য ভবনে চিঠি দিলেন সুদীপ্ত রায়।  

সুদীপ্ত রায়ের আবেদন, মেডিক্যাল কাউন্সিলে শান্তনু সেনের জায়গায় যাতে অন্য কাউকে মনোনীত করা হয়। শান্তনু সেন শেষ কবে কবে মেডিক্যাল কাউন্সিলের বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন, সেই সমস্ত বিস্তারিতও স্বাস্থ্যভবনে লেখা চিঠিতে উল্লেখ করেছেন সুদীপ্ত রায়।

Shantanu Sen, Sudipta Roy, Swasthya Bhawan, letter, Medical Council Post, TMC

এই চিঠি নিয়ে যদিও সর্বসমক্ষে কোনও প্রতিক্রিয়া জানান নি শান্তনু সেন। তবে ঘনিষ্ঠ মহলে তিনি নাকি জানিয়েছেন, কাউন্সিলের বৈঠকে অনুপস্থিত থাকার জন্য আজ পর্যন্ত কারোর সদস্যপদ চলে গিয়েছে বলে তাঁর জানা নেই।

তবে শুধুমাত্র এই ঘটনাই নয়, শান্তনু সেনের দিকে আবার আঙুল তুলেছেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ও। থ্রেট কালচারের অভিযোগ নিয়ে তিনি বলেন, থ্রেট কালচারের অভিযোগ নিয়ে সিবিআই তদন্ত হলে আর জি কর মেডিক্যালের রোগীকল্যাণ সমিতির প্রাক্তন সভাপতির বিরুদ্ধেও তদন্ত হওয়া উচিত। একসময় আর জি করের রোগী কল্যাণ সমিতির সভাপতি ছিলেন শান্তনু সেন।

আরও পড়ুনঃ ‘শুধু সাদা পোশাক পরলেই কলকাতা পুলিশ হওয়া যায় না, মামলার তদন্ত করতেই জানে না…’, পুলিশকে তীব্র ভর্ৎসনা হাইকোর্টের বিচারপতির 

বলে রাখি, আর জি করের দুর্নীতিতে নাম জড়িয়েছিল শান্তনু সেনের বিরুদ্ধে স্বাস্থ্য ভবনে চিঠি দেওয়া তৃণমূল চিকিৎসক সুদীপ্ত রায়ের। তাঁকে তলবও করেছিল ইডি। তল্লাশি চলেছিল তাঁর নার্সিং হোম ও বাড়িতে। তাঁর বিরুদ্ধে এই দুর্নীতির ইস্যুতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। তিনিই এবার শান্তনুকে পদ থেকে সরাতে উদ্যত হয়েছেন। ফলে তৃণমূলে শান্তনু কী ক্ষণিকের অতিথি, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে অনেকের মনেই।

RELATED Articles