‘আমেরিকা যাওয়ার বিমান খরচ ছিল বাবার এক বছরের বেতন’, জানালেন গুগল সিইও পিচাই

যার হাতে স্বয়ং বিশ্বকর্মার বাস, যিনি গোটা বিশ্বের সবচেয়ে বড় তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা গুগলের চিফ এগজিকিউটিভ অফিসার, সেই সুন্দর পিচাইয়ের এই সাফল্য একদিনে আসেনি। এমনকি তাঁকে এই সাফল্যের সিঁড়িতে একধাপ এগিয়ে দিতে প্রায় এক বছরের বেতন খরচ করতে হয়েছিল তাঁর বাবাকে।

স্নাতক ডিগ্রি প্রদানের একটি অনুষ্ঠানে পিচাই জানালেন, কী ভাবে তিনি বিশ্বের সবচেয়ে বড় তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থার শীর্ষস্থানে পৌঁছেছেন৷ ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্দেশ্য করে তিনি বললেন, ‘অল্পতেই হাল ছেড়ো না৷ ধৈর্য রাখো৷ সাফল্য নিশ্চয়ই আসবে।’ ইউটিউব-এর মাধ্যমে ভার্চুয়াল ইভেন্টে ছাত্র-ছাত্রীদের উৎসাহিত করে তিনি বলেন, ‘প্রযুক্তির কিছু বিষয় তোমাদের নিরাশ করতেই পারে। এমনকি বার বার অধৈর্যও করে তুলতে পারে৷ কিন্তু তোমরা ধৈর্য হারিও না৷ বিপ্লব ঘটবে৷ আগামীদিনে এমন কিছু তৈরি হবে, যা আমার প্রজন্ম কোনোদিন স্বপ্নেও ভাবেনি৷’

এরপরই পিচাই জানান তাঁর জীবন সংঘর্ষের কথা। আজ থেকে ২৭ বছর আগে স্ট্যান্ডফোর্ড ইউনিভার্সিটি-তে পড়ার সুযোগ পেয়ে যখন তিনি প্রথম ভারত ছেড়ে মার্কিন মুলুকে পাড়ি দেন সেই সময়ের স্মৃতিচারণা উঠে এল তাঁর বক্তব্যে৷ তিনি বলেন, ‘আমেরিকা যাওয়ার জন্য যে প্লেনের খরচ তা আমাদের সাধ্যের বাইরে ছিল। আমার প্লেনের টিকিট কাটতে বাবাকে প্রায় তাঁর গোটা বছরের বেতনটাই দিয়ে দিতে হয়েছিল৷ তাঁর একটাই উদ্দেশ্য ছিল, যাতে আমি স্ট্যান্ডফোর্ডে পড়তে যেতে পারি৷ আর ওটাই ছিল আমার প্রথম বিমানযাত্রা।’ পিচাই আরও বলেন, ‘আমেরিকায় তখন খরচ করার মতোও অর্থও ছিল না। বাড়িতে একটা ফোন করতে ১ মিনিটে ২ ডলারের বেশি খরচ হয়ে যেত৷ একটা ব্যাকপ্যাকের যা দাম, তত টাকা আমার বাবার একমাসে রোজগার করতেন৷ যখন আমার বিমান ক্যালিফোর্নিয়ার মাটি ছুঁল, তখন আমি জানি না, আমার জীবনে কি হতে চলেছে৷ তখন আমার ভাগ্য ছাড়া আমার একটাই ভরসা ছিল প্রযুক্তির প্রতি অগাধ ভালোবাসা৷’

ধৈর্য না হারিয়ে ছাত্রদের নিজেদের ভালবাসার জিনিসটাকে আঁকড়ে ধরার পরামর্শ দেন পিচাই। তিনি ছাড়াও ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্দেশ্যে এদিন বক্তব্য রাখলেন প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা, প্রাক্তন মার্কিন ফার্স্টলেডি মিশেল ওবামা, সঙ্গীতশিল্পী লেডি গাগা, নোবেলজয়ী মালালা ইউসফজাই৷

RELATED Articles

Leave a Comment