উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ টাকাতেও দিতে হয় কাটমানি, গুরুতর অভিযোগ তুলে দল ছেড়ে বিরোধী শিবিরে যোগ দিলেন শতাধিক মহিলা তৃণমূল কর্মী

উন্নয়নের জন্য যে টাকা বরাদ্দ হয়, তা থেকেও পরবর্তীতে কাটমানি দেওয়ার দাবী তোলে দলীয় নেতৃত্ব। আর তা যদি না দেওয়া হয়, তাহলে বাড়িতে হাজির হয়ে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। এর জেরেই পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে তৃণমূল ছাড়লেন পঞ্চায়েত সদস্যা-সহ একশো জন মহিলা তৃণমূল কর্মী।

ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল, সোমবার মালদহের চাঁচলে অলিহোন্ডা গ্রাম পঞ্চায়েতে। এই ঘটনার জেরে শাসক দলে বেশ অস্বস্তি বেড়েছে। এই গ্রাম পঞ্চায়তের রাজনগর বুথে মোট ১০০ মহিলা তৃণমূল কর্মীর দলত্যাগের ঘটনায় বেশ হইচই পড়ে গিয়েছে ওই এলাকায়। একদিকে যখন তৃণমূল একের পর এক দুর্নীতিতে জড়াচ্ছে, এমন সময় এতজন মহিলা কর্মীর দলত্যাগের ঘটনা যে দলের জন্য বেশ চিন্তার, তা বলাই বাহুল্য।  

বলে রাখি, কিছুদিন আগেই মালদহের চাঁচলে অন্য এক পঞ্চায়েত সদস্য দলত্যাগ করেন। আর এবার ১৩টি আসনের অলিহোন্ডা গ্রাম পঞ্চায়েতের পঞ্চায়েত সদস্য ফুলমণি দাস-সহ একশো জন মহিলা তৃণমূল কর্মী দল ছাড়লেন। তৃণমূল ছেড়ে তারা যোগ দিলেন বিরোধী শিবির কংগ্রেসে।

উল্লেখ্য, গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে ১৩টি আসনের মধ্যে ৯টি আসনে জিতেছিল তৃণমূল। বাকি চারটির একটিতে বাম ও বাকি তিনটিতে জয়লাভ করে কংগ্রেস। এবার ফুলমণি দাস সেই কংগ্রেসেই যোগ দিলেন। দলত্যাগ করার বিষয়ে ফুলমণি দাস বলেন, “উন্নয়নের জন্য টাকা বরাদ্দ থাকলেও সেখান থেকে কাটমানির জন্য একের পর এক হুমকি দিয়ে চলেছিল দলের নেতারা। সেই কারণেই বাধ্য হয়ে দলত্যাগ করলাম”।

তবে তৃণমূল নেত্রীর এই অভিযোগ একেবারেই উড়িয়ে দিয়েছেন এলাকার তৃণমূল সভাপতি। তাঁর কথায়, “ওনার থেকে টাকা চাওয়া হয়েছে, এই অভিযোগ মিথ্যা। আসলে টাকার ভাগ না পাওয়ার জন্যই দল ত্যাগ করেছেন। এ কারণে তৃণমূল কংগ্রেস কখনোই দুর্বল হয়ে পড়বে না”।

পঞ্চায়েত সদস্যা ও একজন মহিলা কর্মীর দলত্যাগের বিষয়কে তৃণমূলের তরফে তেমন গুরুত্ব না দেওয়া হলেও এ নিয়ে তোপ দাগতে ছাড়ে নি বিজেপি। বিজেপি নেতা সুমিত সরকার বলেন, “শুধু কংগ্রেস নয়, বিজেপিতে যোগ দেওয়ার জন্য একাধিক তৃণমূল কর্মীরা নাম লিখিয়ে চলেছে। আগামী দিনে আমাদের দলে অনেকেই যোগ দেবেন”।

RELATED Articles