সবচেয়ে বড় দুর্গা! এই কথাটা বললেই মাথায় আসে ২০১৫ সালের দক্ষিণ কলকাতার দেশপ্রিয় পার্কের পুজোর কথা। ৮৮ ফুটের দুর্গা প্রতিমা বানিয়ে সকলকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিল সেই পুজো কমিটি। সেই পুজো দেখতে নানান জেলার মানুষ ভিড় করেছিলেন কলকাতায়। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত ভিড় সামাল দিতে না পেরে পঞ্চমীর দিনই বন্ধ হয়ে সেই পুজো মণ্ডপ। এবার বাংলাতেই তৈরি হল ১১০ ফুটের দুর্গা।
রাণাঘাটের অভিযান সংঘে এই বছর তৈরি হয়েছে ১১২ ফুটের দুর্গা প্রতিমা। তবে সেই পুজো নিয়ে আপাতত জটিলতা। সেই পুজোর অনুমতি মিলছে না। জল গড়িয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট পর্যন্ত। কিন্তু তাও সেই পুজোর আশা যেন ক্ষীণ। তবে ১১০ ফুটের এই দুর্গা কিন্তু দর্শন করতে পারবেন দর্শক। সেই মণ্ডপ খোলা সকলের জন্য।
এতই বড় মূর্তি যে অনেক দূর থেকেই দেখা যাবে বিশালাকার আকৃতির দুর্গা। এই মণ্ডপ তৈরি হল সোদপুরের পানিহাটি পুরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের শহিদ কলোনি সর্বজনীন দুর্গাপুজো কমিটিতে। পানিহাটি ধানকল বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এই পুজো এই বছর ৭৫ বছরে পড়ল। ফলে হীরক জয়ন্তী উপলক্ষ্যে অভিবন কোনও ভাবনা আনতে চেয়েছিলেন পুজোর উদ্যোক্তারা। আর সেই ভাবনা থেকেই এমন বিশালাকার মূর্তি।
জানা গিয়েছে, ১১০ ফুট উচ্চতা ও ১২০ ফুট চওড়া মাতৃপ্রতিমার আদলেই তৈরি হচ্ছে এই দুর্গামণ্ডপ। এই মণ্ডপ সেজে উঠছে পানশিলার বাসিন্দা শিল্পী চিরঞ্জিত দাসের নেতৃত্বে। মূলত ফাইবার দিয়েই তৈরি হচ্ছে এই মূর্তি। মণ্ডপের বহিঃরঙ্গে দেখা যাবে সপরিবারের দুর্গা। মণ্ডপের ভিতরে যে দুর্গা প্রতিমা থাকছে, তাতেও রয়েছে বড় চমক। এত বড় এত নিখুঁত পরিপাটি দুর্গা এর আগে কখনও মানুষ দেখেনি বলেই দাবী এই পুজোর অন্যতম কর্মকর্তা তথা স্থানীয় তৃণমূল কাউন্সিল জয়ন্ত দাসের।
জয়ন্ত দাস বলেন, “প্রথমে আমরা বড় কিছু করার চিন্তা করেছিলাম। তবে সেটা ১১০ ফুট হবে বলে ভাবিনি। পুজো মণ্ডপটি দেবী দুর্গার আদলে তৈরি করা হচ্ছে। যা সবচেয়ে বড় দুর্গা। মণ্ডপের ভিতরে থাকবে আরও একটি দুর্গা। যা ঘুরবে। সঙ্গে থাকবে আলোর ব্যবহার। আমরা মনে করছি দর্শনার্থীরা আগে অনেক কিছু দেখছে, কিন্তু এই রকম কিছু দেখনি”।





