৫০০ অ্যাটম বোমার শক্তি! ২২ ডিসেম্বর ২০৩২ কি শেষ হতে পারে কলকাতার ভবিষ্যৎ?

কল্পবিজ্ঞান সিনেমার গল্প এবার বাস্তবে? ৭ কোটি বছর আগে ডাইনোসরদের বিলুপ্তির পেছনে যে মহাজাগতিক বিপর্যয় ছিল, সেইরকমই কিছু আবারও কি ঘটতে চলেছে? ২০৩২ সালের ডিসেম্বরে পৃথিবীর সঙ্গে সংঘর্ষ হতে পারে এক বিশাল গ্রহাণুর। আর নাসার সাম্প্রতিক গবেষণায় উঠে এসেছে যে ভারতের দুটি বড় শহর, মুম্বই এবং কলকাতা, এই ভয়ঙ্কর রিস্ক করিডরের মধ্যে রয়েছে। প্রশ্ন উঠছে—এই গ্রহাণু কি সত্যিই কলকাতায় আছড়ে পড়তে পারে? যদি পড়ে, তাহলে ক্ষয়ক্ষতি কতটা ভয়ঙ্কর হবে?

বিজ্ঞানীরা বলছেন, পৃথিবীর গঠন ও মহাকাশের বিশালতার সামনে এমন ঘটনার সম্ভাবনা নতুন কিছু নয়। বহু বছর আগে এমন এক বিশাল গ্রহাণুর আঘাতেই নাকি ডাইনোসররা নিশ্চিহ্ন হয়েছিল। কিন্তু আধুনিক সভ্যতার ওপর এই ধরনের আছড়ে পড়ার ঘটনা কী প্রভাব ফেলতে পারে? বিজ্ঞানীরা এই আশঙ্কাকে উড়িয়ে দিতে পারছেন না। কারণ, ৫০০ অ্যাটম বোমার সমান শক্তি নিয়ে এই গ্রহাণু আছড়ে পড়তে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। ফলে যদি তা সত্যি হয়, তবে ব্যাপক ধ্বংস অনিবার্য।

এমন ভয়ঙ্কর আশঙ্কার মধ্যেও প্রশ্ন থেকে যায়—বিজ্ঞান কি এই বিপদ এড়াতে সক্ষম হবে? নাসা ও অন্যান্য মহাকাশ গবেষণা সংস্থাগুলো ইতিমধ্যেই গ্রহাণু প্রতিরোধের প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে। তবে ২০৩২ সালের এই সম্ভাব্য বিপর্যয় ঠেকানোর উপায় কি আদৌ আছে? এই নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে তর্ক চলছে। তবে বাস্তব সত্য হলো, এই মুহূর্তে কলকাতা এবং মুম্বইয়ের নাম রিস্ক করিডরে জ্বলজ্বল করছে, যা স্বাভাবিকভাবেই চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আরও পড়ুনঃ রাত ১টায় এক্সপ্রেস ট্রেনে মদের আসর, মহিলা যাত্রীকে হেনস্থা! কোথায় ছিল পুলিশ?

নাসার গবেষণায় উঠে এসেছে, ‘2024 YR-4’ নামের এই গ্রহাণুটি ২০৩২ সালের ২২ ডিসেম্বর পৃথিবীর বুকে আছড়ে পড়তে পারে। প্রথমে ৩.১% সম্ভাব্য সংঘর্ষের কথা বলা হলেও, পরবর্তীতে সেই সম্ভাবনা কমিয়ে ১.৫% করা হয়েছে। তবে বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই ঝুঁকি একেবারে উড়িয়ে দেওয়া সম্ভব নয়। তাই এখনই মহাকাশ বিজ্ঞানীরা সতর্ক হয়ে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছেন। যদি এই গ্রহাণু সত্যিই পৃথিবীর বুকে আঘাত হানে, তবে তা এক ভয়ঙ্কর ধ্বংসযজ্ঞের কারণ হতে পারে।

এই গ্রহাণুর আঘাত কতটা মারাত্মক হতে পারে, তা এখনো নির্দিষ্টভাবে বলা যাচ্ছে না। তবে মহাকাশ গবেষণা সংস্থাগুলি সম্ভাব্য প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার পরিকল্পনা করছে। বিজ্ঞানীরা আশা করছেন, ভবিষ্যতে প্রযুক্তির উন্নতির ফলে হয়তো এই বিপদ এড়ানো সম্ভব হবে। তবে এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। কলকাতা এবং মুম্বইয়ের মতো শহর এই রিস্ক করিডরে থাকায় আতঙ্ক বেড়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যেও। আগামী দিনে নাসার পর্যবেক্ষণ কী বলবে, সেটাই এখন দেখার।

Khabor24x7 Desk

আরও পড়ুন

RELATED Articles