যত বিধানসভা নির্বাচন এগিয়ে আসছে ততই তৃণমূল শুদ্ধিকরণের পথে এগোচ্ছে! এর আগে করোনার সময় রেশন বিলি ও আমফান প্রাণ দুর্নীতির অভিযোগে বেশ কয়েকজন তৃণমূল নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করে শীর্ষ নেতৃত্ব। এবার এলাকায় লুঠতরাজ চালানোর জন্য দলের এক শীর্ষ নেতাকে পাঁচ বছরের জন্য বহিষ্কার করল হাওড়া তৃণমূল নেতৃত্ব।
বহিষ্কৃত তৃণমূল নেতার নাম স্বপন কুমার পোড়েল। তিনিহাওড়ার উদয়নারায়ণপুরের বালিচক অঞ্চল কমিটির সভাপতি ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে বালি পাচার, তোলাবাজি-সহ একাধিক অভিযোগ উঠেছিল। প্রথমে তাকে সতর্ক করা হয়। তারপর অঞ্চল সভাপতি পদ থেকে সরিয়ে স্বপনকে স্থানীয় স্টিয়ারিং কমিটি সদস্য করা হয়। কিন্তু তাতেও শোধরাননি স্বপন। উল্টে দলেরই পুরনো কর্মীদের সঙ্গে মারধর ও লুটপাটের ঘটনায় নাম জড়ায় তৃণমূল নেতার।
এরপর গত ১৮ জুলাই হাওড়ার আমতার বাগুয়া বাজারে প্রকাশ্য দিবালোকে আক্রান্ত হন তৃণমূলের কয়েক নেতা ও কর্মী। তাঁদের ধারালো অস্ত্র দিয়ে প্রাণ মেরে ফেলার চেষ্টা করা হয় অভিযোগ। সেই ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে এখনও হাসপাতালে ভর্তি চারজন। আর এই ভয়ঙ্কর হামলার পিছনে স্বপন কুমার পোড়েলের হাত আছে বলে অভিযোগ ওঠে। তাঁর বিরুদ্ধে আমতা থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়।
এরপর পুলিশ তল্লাশি চালিয়ে অভিযুক্তকে ধরতে পারে না। এবার টনক নড়ে তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্বের। শনিবার উদয়নারায়ণপুর বিধানসভাকেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেসের কোর কমিটি বৈঠক হয়। বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে অভিযুক্ত স্বপন পোড়েলকে পাঁচ বছরের জন্য দল থেকে বহিষ্কার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বহিষ্কৃত নেতার ঠিকানায় চিঠিও পাঠিয়ে দিয়েছেন কোর কমিটির চেয়ারম্যান তথা স্থানীয় বিধায়ক সমীরকুমা পাঁজা।
তাঁর বক্তব্য, “তৃণমূল কংগ্রেসে দুর্নীতি ও দুর্নীতিপরায়ণ ব্যক্তিদের কোনও স্থান নেই। বহুবার সতর্ক করা সত্ত্বেও স্বপনকুমার পোড়েল নিজেকে বদলাননি। তাই তাঁকে বহিষ্কার করা ছাড়া আর কোনও উপায় ছিল না।”





