বাংলা থেকে দূরে থাকলেও তিনি বোধহয় বাংলাবাসীদের থেকেও অনেকটা বেশি বাঙালি। নোবেলজয়ী অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথা হচ্ছে। নোবেলের মঞ্চে পুরস্কার নিতে গিয়েছিলেন ধুতি পাঞ্জাবি পরে। বাংলা ভাষায় স্বচ্ছন্দে গরগর করে সাক্ষাৎকার দেন। সেখানে বাংলা যখন ঘূর্ণিঝড় আমফানে বিধ্বস্ত সেখানে সুদূর বস্টনে বসে যে তার মন কাঁদবে না এ কি হয়?
ঘূ্র্ণিঝড় আমফানের দাপটে ছিন্নভিন্ন হয়ে গিয়েছে গোটা সুন্দরবন। প্রশাসন, বিভিন্ন সংস্থা ও সহৃদয় ব্যক্তিদের সহযোগিতায় কোনওক্রমে জীবনযুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন ওই এলাকার মানুষেরা। এবার তাঁদের দিকেই সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলেন অভিজিৎ। বন্ধু বান্ধব থেকে আত্মীয়, প্রত্যেককে ওই মানুষগুলোর পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানাচ্ছেন তিনি।
বস্টন ও সুন্দরবনের মাঝে সেতুর কাজ করেছে লিভার ফাউন্ডেশন ওয়েস্ট বেঙ্গল। তাঁদের মাধ্যমেই সুন্দরবনবাসীর কাছে ত্রাণ পৌঁছেছেন অভিজিৎবাবু। জানা গিয়েছে, নোবেলজয়ীর উদ্যোগেই ওই সংস্থার তরফে আমফান বিধ্বস্তদের জন্য চালানো হচ্ছে কমিউনিটি কিচেন। লিভার ফাউন্ডেশনের সম্পাদক জানিয়েছেন, “আমফানের ক্ষয়ক্ষতি শুনেই ভেঙে পড়েছিলেন অভিজিৎবাবু। সেই থেকে বারবার ফোন করে খবর নিয়েছেন। সহযোগিতা করে চলেছেন।”
এই প্রসঙ্গে নোবেলজয়ী বাংলার এই কৃতী সন্তান কী বলছেন?
“বস্টনে বসে আমি ভিডিও দেখেছি সুন্দরবনের। সব শেষ হয়ে গিয়েছে। এবার দুর্গতদের খাদ্য ও বাসস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। যে গাছ বা গোয়ালের ক্ষতি হয়েছে সেটা ফেরানো সম্ভব নয়, কিন্তু অন্যভাবে ফের স্বাভাবিক জীবনে ফেরাতে হবে অসহায় সুন্দরবনবাসীদের।” উদ্বেগের সুর অভিজিৎ এর গলায়।
কতদিনে সবকিছু ঠিক হবে তা কারোরই জানা নেই। কিন্তু এইসব মহান ব্যক্তিত্বরা পাশে থাকলে সুন্দরবন যে আবার ঘুরে দাঁড়াবেই তা হলফ করে বলা যায়।





