গত কয়েকদিন ধরেই খবরের শিরোনামে বারবার জায়গা করে নিয়েছেন কলকাতা হাইকোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। তিনি জানিয়ে দিয়েছেন যে বিজেপিতেই যাচ্ছেন তিনি। এমন আবহে এবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূয়সী প্রশংসা শোনা গেল তাঁর মুখে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে একজন বুদ্ধিমতী ও অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ বলেই উল্লেখ করলেন তিনি।
গত রবিবার অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় ঘোষণা করেছিলেন যে তিনি বিচারপতির পদ থেকে ইস্তফা দিচ্ছেন। পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ীই গতকাল, মঙ্গলবার বিচারপতি পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন তিনি। এদিনই তিনি ঘোষণা করেছেন যে তিনি বিজেপিতেই যোগ দিচ্ছেন। ৭ মার্চ তিনি গেরুয়া শিবিরে যোগ দিচ্ছেন।
মমতার স্তুতি প্রাক্তন বিচারপতির গলায়
তবে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার কথা বললেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হতেই শোনা গেল প্রাক্তন বিচারপতিকে। মমতার ভূয়সী প্রশংসা করলেন তিনি। অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের কথায়, “মমতার অভিজ্ঞতা প্রচুর। অত্যন্ত বুদ্ধিমতী মহিলা। সন্ত্রাসের মধ্যেও লড়াই করার ক্ষমতা রাখেন”।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লড়াইয়েরও প্রশংসা করেন অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “আমি বিশ্বাস করি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সত্যিই একজন সরল মহিলা। দায়িত্বশীল রাজনীতিবিদ এবং পুরনো রাজনীতিবিদ, যিনি ব্যক্তিগত আক্রমণকে গ্রাহ্য না করে বিরোধিতা চালিয়ে গিয়েছেন। কংগ্রেসের বীরেরা যখন পালিয়েছেন, তখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে মাথায় লাঠি খেয়েছেন। মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছেন। এত সন্ত্রাস হয়েছিল যে তিনি মারা যেতে পারতেন, তার মধ্যেও বিরোধিতা জারি রেখেছিলেন। আমি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে খুব শ্রদ্ধা করি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আমি তো কখনও আক্রমণ করি না।”।
তাহলে কী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একজন ভালো প্রশাসক?
এই বিষয়ে অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের মত, “তাঁর কোনও মতাদর্শ নেই। মা মাটি মানুষ আসলে কী, তার কোনও ব্যাখ্যা নেই। তিনি ভাল প্রশাসন চালানোর চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু ব্যর্থ হয়েছেন। দুর্নীতিগ্রস্ত মানুষদের প্রশ্রয় দিয়েছেন”।
দুর্নীতির টাকা যে মমতা লাভ করেছেন, এমন কোনও অভিযোগ নেই বলেই জানালেন অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “হতে পারে দুর্নীতির কথা মমতা জানতেন, হতে পারে জেনেও করতে পারেননি কিছু। মমতা কোটি কোটি টাকা লাভ করেছেন এই অভিযোগ ওঠেনি এখনও। তবে অনেককে লাভ করার সুযোগ করে দিয়েছেন”।





