তিনি রাজনীতিতে আর নেই। তবে তা বলে সিপিএমের সঙ্গেও প্রত্যক্ষভাবে যে তিনি যুক্ত হচ্ছেন না, একথাও ফেসবুকে সাফ জানিয়ে দিলেন অভিনেত্রী রূপা ভট্টাচার্য।
দু’দিন আগেই টলিপাড়ার দুই অভিনেতা তথা বিজেপি কর্মী রূপা ভট্টাচার্য ও অনিন্দ্য পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়কে যাদবপুরে সিপিএমের শ্রমজীবী ক্যান্টিনের ৫০০ দিন পূর্তি উদযাপনের অনুষ্ঠানে দেখা গিয়েছিল। এই নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় কম লেখালেখি হয়নি।
রূপা ও অনিন্দ্যকে নিজেদের দলের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে দেখে ক্ষোভ উগড়ে দেন দুই অভিনেতা তথা বামনেতা শ্রীলেখা মিত্র ও রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়। এই ঘটনার পক্ষে-বিপক্ষে নানান মন্তব্য করা হয় সোশ্যাল মিডিয়ায়। তখনই প্রশ্ন উঠেছিল যে রূপা কী তবে সিপিএমে যোগ দিচ্ছেন? সেই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর দিলেন অভিনেত্রী নিজেই।
একটি ফেসবুক পোস্ট করে রূপা জানান, “রাজনীতি ছাড়লাম। অন্য কোনও রাজনৈতিক দলেই জয়েন করছি না। মানুষের ভালোর জন্য ন্যায্য কথা বলব। ভাল কাজকে সমর্থন করব। খারাপের প্রতিবাদ করব”। অভিনেত্রীর ওই সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছেন নেটিজেনদের একাংশ সমর্থন জানিয়েছেন। অন্যদিকে, রূপা সমর্থন পেয়েছেন বিজেপি নেত্রী কাঞ্চনা মৈত্ররও। রূপার এই পোস্টের কমেন্ট বক্সে কাঞ্চনা লেখেন, “যাই করবে তুমি তোমার সেরা টা দেবে। কারণ দিনের শেষে তুমি সেই হতাশাগ্রস্ত, আমিত্বে ভরা মানুষ নও। তুমি একজন ভাল মনে মানুষ”।
আরও পড়ুন- ফের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর ফর্ম বিলি নিয়ে বিপত্তি, হুড়োহুড়িতে পদপিষ্ট শিশু-সহ ৯ জন
রাজনীতি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পোস্টের আগে রূপা আরও একটি পোস্ট করেছিলেন। সেই পোস্টে তিনি দিলীপ ঘোষের শিল্পীদের ‘রগড়ে দেব’ মন্তব্য থেকে শুরু করে বিজেপির অন্দরে লবিবাজি নিয়ে সরব হয়েছিলেন।
দিলীপ ঘোষকে তোপ দেগে রূপা লেখেন, “আমরা মুকুল রায়ের মাধ্যমে এসেছি তাই আপনার (দিলীপ ঘোষ) লবি নাকি আমাদের অ্যান্টি। ওরে বাবা তারপর দু বছর এই লবির জন্য ভয়ঙ্কর নাকানি চোবানি খেলাম সবাই। এর সাথে গেলে ও রাগ করে করে । এ ডাকলে ও বলে রাজনৈতিক কেরিয়ার শেষ করে দেব…”।
প্রসঙ্গত, অনিন্দ্য-রূপার সিপিএমের কর্মসূচীতে যোগ দেওয়ার পরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করেন রাহুল। রূপা-অনিন্দ্যর হঠাৎ আগমনকে কটাক্ষ করেই রাহুল লেখেন, “আমি কোনো প্রলোভন বা ক্ষমতার কারণে রাজনীতি করিনা।আমার রাজনীতি একান্তই আদর্শগত। সিপিএমের মঞ্চে যদি টিকিট না পাওয়া হতাশ বিজেপি জায়গা পায় তাহলে আমি আজ এই মুহূর্ত থেকে এর সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করলাম”।
অন্যদিকে, অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র রাহুলের এই পোস্টকে সমর্থন জানান। এরপর নিজের প্রোফাইল থেকে তিনি লেখেন, “আমরা লিবারাল এই মর্মে যদি ‘মানুষের জন্য কাজ করতে চাওয়ার দল’ যারা বিজেপিতে যোগদান করেছিল তাঁদের সিপিএমের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে দেখা যায় তবে অনেক অপমান আর কষ্ট নিয়ে বলছি সিপিএমের সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করার কথা ঘোষণা করছি”।





