মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, মুকুল রায় ও দীনেশ ত্রিবেদীর ব্যঙ্গচিত্র এঁকেছিলেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক অম্বিকেশ মহাপাত্র। নামকরণ করেছিলেন, “মুকুল…দুষ্টু লোক ভ্যানিশ’। এর জন্য হাজতবাস করতে হয় তাঁকে। ১১ বছর ধরে ওই ঘটনার মামলা চলছিল। অবশেষে অব্যাহতি পেলেন অধ্যাপক। ব্যঙ্গচিত্র-কাণ্ডে তাঁকে অবশেষে অব্যাহতি দিল আলিপুর আদালত।
নিজের ফেসবুক ওয়ালে একটি দীর্ঘ পোস্ট শেয়ার করেছেন অম্বিকেশ মহাপাত্র। পোস্টে তিনি লেখেন, ১১ বছর পরে ব্যঙ্গচিত্রের মামলা থেকে তাঁকে অব্যাহতি দিয়েছে আলিপুর আদালত। ২০১২ সালের ১২ই এপ্রিল অম্বিকেশ মহাপাত্রর বিরুদ্ধে পূর্ব যাদবপুর থানায় যে মামলা দায়ের হয়েছিল, সেই মামলা থেকে তিনি অব্যাহতি পেয়েছেন।
২০২১ সালের ১৪ই সেপ্টেম্বর আলিপুর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের এজলাসে ব্যঙ্গচিত্র সংক্রান্ত এই মামলা থেকে অব্যাহতি চেয়ে আবেদন জানিয়েছিলেন অম্বিকেশ মহাপাত্র। সেই আবেদন খারিজ করে দেন আলিপুরের CJM। এরপর নতুন করে আলিপুর আদালতের অ্যাডিশনাল সেশন জাজের এজলাসে আবেদন জানান অধ্যাপক অম্বিকেশ মহাপাত্র। আর এবার অবশেষে মিলল রেহাই।
অধ্যাপক বলেন, “প্রায় ১১ বছর ব্যঙ্গচিত্রকাণ্ডের ফৌজদারি মামলা থেকে নিষ্কৃতি মিলল। রাজ্যের সাধারণ প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, শাসকদল এবং দুষ্কৃতীদের শত বেআইনি এবং অসাংবিধানিক বাধা সত্ত্বেও। এই জয় গণতন্ত্রপ্রিয় নাগরিকের গণতন্ত্রের প্রতি দায়বদ্ধতার জয়”।
সালটা ছিল ২০১২। সদ্য রাজ্যে ক্ষমতায় এসেছে ঘাসফুল শিবির। সেই সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, মুকুল রায় ও দীনেশ ত্রিবেদীকে নিয়ে একটি ব্যঙ্গচিত্র এঁকে তা সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেছিলেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক অম্বিকেশ মহাপাত্র। তা নিয়ে উত্তাল হয় রাজ্য-রাজনীতি। সাইবার ক্রাইমের অভিযোগ দায়ের হয় তাঁর বিরুদ্ধে। হাজতবাস করেন তিনি।
এরপর বঙ্গ রাজনীতিতে জল অনেকদূর গড়িয়েছে। মাঝে মুকুল রায় তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন। তবে ফের পুরনো দলে ওয়াপসি করেন তিনি। আর দীনেশ ত্রিবেদী এখন তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে। অন্যদিকে, রাজ্যে তৃতীয়বার ক্ষমতা প্রতিষ্ঠা করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।





