আগামী সোমবার থেকে পশ্চিমবঙ্গের গ্রীন জোনে বাস চালানোর অনুমতি দিয়েছে রাজ্য সরকার। প্রশাসনের তরফ থেকে জানানো হয়েছে সামাজিক দূরত্ব যাতে বজায় থাকে তাই বাস মাত্র ২০ জন যাত্রীই নিতে পারবে।
তবে এখন বাস সংগঠনগুলির দাবি, মাত্র ২০ জন যাত্রী নিয়ে বাস চালানো তাঁদের পক্ষে সম্ভব নয়। একটি বাস চালাতে যে টাকা খরচ হয় তাতে ২০ জন যাত্রী নিয়ে বাস চালাতে গেলে ক্ষতির বহর আরও বেড়ে যাবে। দেশে করোনা সংক্রমণের শুরুর দিকেই ক্রমশ কমছিল গণ পরিবহণের সংখ্যা। রাস্তায় যাত্রীর সংখ্যা কম থাকায় ধীরে ধীরে বাস চলাচলের সংখ্যা কমেছে। জনতা কার্ফুর দিন থেকে বাস চলাচল বন্ধ হয়। তবে লকডাউন ঘোষণা হওয়ার পর থেকে রাস্তায় আর বাস নামেনি। দীর্ঘদিন ধরে বাস না চলায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে ব্যবসার। এই অবস্থায় ২০ জন যাত্রী নিয়ে ফাঁকা বাস চালানো ব্যবসার পক্ষে লাভজনক নয় বলে মত বিভিন্ন বাস মালিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের।
রাজ্যের যে সমস্ত জেলা গ্রিন জোন বলে ঘোষণা হয়েছে সেখানে বড় বাস চলাচল করে। মিনি বা মিডি বাস চলাচল করেনা। যে বাস চলাচল করে তাতে নূন্যতম আসন সংখ্যা ৫০-এর কাছাকাছি। সেখানে মাত্র ২০ আসনে যাত্রী মানে ফাঁকা পড়ে থাকবে ৩০ আসন। এছাড়া ৫০ আসনের বাসে যাত্রী হয় কমপক্ষে ৭০ এর কাছাকাছি। ফলে যে ভাড়ায় বাস চালানো হয় তাতে কিছুটা হলেও বাস চালানোয় মুশকিল হয়না বলে মত সংগঠনের। এখন বাসের প্রাথমিক ভাড়া ৭ টাকা। প্রথম ৪ কিলোমিটার এই ভাড়ায় যাওয়া যায়। তার পরে স্টেজ পিছু ভাড়া বাড়তে থাকে।
এই অবস্থায় বাস চালানো নিয়ে ফাঁপড়ে বাস মালিকরা। বাস-মিনিবাস সমন্বয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক রাহুল চ্যাটার্জি জানিয়েছেন, “এই ভাড়ায় ২০ জন যাত্রী নিয়ে বাস চালানো মুশকিল। কোন আয় তো হবেই না। উল্টে ক্ষতি হয়ে যাবে বাস মালিকদের। এই টাকায় পরিষেবা দেওয়া ভীষণ মুশকিল।” একই সুর জয়েন্ট কাউন্সিল অফ বাস সিন্ডিকেটের সাধারণ সম্পাদক তপন বন্দোপাধ্যায়ের। তিনিও জানিয়েছেন, “বাস মালিকদের গৌরি সেন নেই। এই ভাবে বাস চালানো অবাস্তব আমাদের পক্ষে। সরকার অন্য রকম ভাবনা চিন্তা করুক।” বাস মালিকদের অনেকের দাবি, ভোটের সময় সরকার যে ভাবে রিকুইজিশন দিয়ে বাস নেয়। তেমন ভাবে রিকুইজিশন দিয়ে বাস নিক মালিকদের থেকে। তাহলে অন্তত বাস চালিয়ে নিশ্চিত করা যাবে কর্মীদের মাইনে।





