পুলিশের বিরুদ্ধে নানান সময় নানান অভিযোগ এসেই থাকে মানুষের তরফে আর বিগত কিছুদিনে রাজ্যে যেসমস্ত ঘটনা ঘটে গিয়েছে, তাতে রাজ্য পুলিশের উপর থেকে আস্থা হারাচ্ছে মানুষ। পুলিশের বিরুদ্ধে জোর করে চালান কেটে টাকা তোলার অভিযোগ এই শহরে কম নয়। এবার তেমনই এক অভিযোগ উঠে এল।
সম্প্রতি নেট দুনিয়ায় ভাইরাল হয়েছে কিছু ভিডিও ও ছবি। এই পোস্টের যিনি করেছেন তাঁর নাম গৌরব সাহা। তিনি জানান যে তিনি অ্যামিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়া। যে ঘটনার কথা তিনি বলেছেন সেটি দিন তিনেক আগেকার।
ওই পড়ুয়ার কথায়, ঘটনার দিন সকাল সাড়ে এগারোটা নাগাদ ওই পড়ুয়া ও তাঁর এক সহপাঠী কলেজের দুটো ক্লাস শেষ করে বাইরে নিজেদের গাড়ির মধ্যে বসেছিলন। অভিযোগ, সেই সময় একটি পুলিশের ভ্যান আসে আর কোনও রকমের তল্লাশির কোনও নির্দেশ ছাড়াই তাদের গাড়ি তল্লাশি চালাতে থাকে।
পড়ুয়া জানায় যে তাদের গাড়িতে সন্দেহজনক কিছু পাওয়া যায়নি। এরপর পুলিশ তাঁকে তাঁর লাইসেন্স ও অন্যান্য গাড়ির কাগজপত্র দেখাতে বললে সে তাও দেখায়। তবে পড়ুয়ার কথায় তাঁর সহপাঠীর কাছে সেই সময় ‘পলিউশন পেপার’ ছিল না কারণ একদিন আগেই সে তাঁর গাড়ি সারিয়েছে আর সেদিনই তাঁর পলিউশন পেপার নিতে যাওয়ার কথা ছিল।
পলিউশন পেপার না থাকার দরুন ১০ হাজার টাকার চালান কাটতে বলেন ওই পুলিশ অফিসার। কিন্তু পড়ুয়া জানায় যে তাঁর কাছে তো অত টাকা এখন নেই। এরপর পুলিশ বলে যে তাহলে ১০০০ টাকা দিতে হবে। ওই পড়ুয়ার সহপাঠী বলে যে তাঁর কাছে ৫০০ টাকা আছে, সেটাই যেন তিনি নেন। এরপর পুলিশ অফিসারটি বলেন, “বাবা যখন এই কলেজে পড়াচ্ছে, তারমানে নিশ্চয় অনেক টাকা। ৫০০ টাকা দিয়ে তো তোমায় পাঠায় না। আমি জানি তুমি আরও দিতে পারবে। দেখো, ১০০০ টাকার কমে ছাড়া যাবে না”।
এই নিয়ে তর্ক-বিতর্ক চলতে থাকায় পুলিশ অফিসার শেষ পর্যন্ত ৫০০ টাকা নেন। পুলিশ ভ্যান চলে যাওয়ার সময় ওই পড়ুয়া সেই ভ্যানের ছবি তুললে, তা চোখে পড়ে ওই পুলিশ আধিকারিকে। এরপরই ভ্যান থেকে নেমে তিনি ওই পড়ুয়ার কলার ধরে টানতে টানতে ভ্যানের মধ্যে নিয়ে যান। এমনকি, তাদের ফোনও কেড়ে নেওয়া হয় ও তাঁর সহপাঠীর গাড়ির চাবিও কেড়ে নেন ওই পুলিশ অফিসার।
এই ঘটনার ভিডিও ও ছবি ওই পড়ুয়া সোশ্যাল মাধ্যমে শেয়ার করেন ও প্রশ্নও তোলেন যে ‘আমরা কী সত্যিই নিরাপদ?’ এই ধরণের ঘটনা তো আকছার ঘটতেই থাকে নিত্য জীবনে। এই ঘটনায় কী সরব হওয়া উচিত নয় সকলের, প্রশ্ন ওই পড়ুয়ার।





