শিক্ষাব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন করেছে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার। আর কেন্দ্রের এহেন শিক্ষানীতির তীব্র সমালোচনা করে বিজেপিকে একহাত নিলেন বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু। নিজের বক্তব্যে তিনি বলেছেন, কেন্দ্রের এই শিক্ষানীতি সংবিধান বিরোধী। পাশাপাশি কারোর মতামতাকে গুরুত্ব না দিয়ে বিজেপি দেশের গণতন্ত্রকে ধ্বংস করে দিতে চাইছে। তারা সরকারকে পরিচালনা করছে ফ্যাসিবাদী কায়দায় ।
পোড় খাওয়া এই রাজনীতিকের আরও বক্তব্য, সংবিধানের ধারা অনুযায়ী শিক্ষা যৌথ তালিকাভুক্ত। বিজেপি সেটা মানছে না। রাজ্যগুলোর সঙ্গে কোনও আলোচনা করল না। অসংখ্য শিক্ষাবিদ এবং শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা এই নতুন শিক্ষানীতি নিয়ে নানা মত দিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁদের সঙ্গে কোনও আলোচনা করা হয়নি। রাজ্যগুলোর মতামত নেওয়া একেবারেই হয়নি। তাই যৌথতালিকাভুক্ত সংবিধান অনুযায়ী এটাই প্রমাণ করে বিজেপি শিক্ষাক্ষেত্রে শুধু নৈরাজ্য সৃষ্টি করল না। দেশে গণতন্ত্রকে ধ্বংস করল।
কি পরিবর্তন করেছে কেন্দ্র?
বুধবারের ঘোষিত শিক্ষানীতিতে বলা হয়েছে দশম ও দ্বাদশ শ্রেণিতে আর নতুন করে বোর্ডের পরীক্ষা হবে না। তার পরিবর্তে আনা হচ্ছে ৫+৩+৩+৪ পদ্ধতি। এখানে প্রাক-প্রাথমিককেও আনা হচ্ছে স্কুলের আওতায়। ক্লাস ওয়ান ও ক্লাস টু-কে রাখা হচ্ছে প্রি-প্রাইমারির মধ্যে। এটিকে বলা হচ্ছে ফাউন্ডেশন কোর্স।
নতুন ব্যবস্থায় নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত একটি স্টেজ করা হচ্ছে। এটিকে বলা হচ্ছে সেকেন্ডারি স্টেজ। ফলে ওই স্টেজ চালু হলে এখনকার মতো আর দশম ও দ্বাদশ শ্রেণির বোর্ডের পরীক্ষা হবে না। নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত ৪ বছরের মধ্যে ৪০টি বিষয়ে পরীক্ষা দিতে হবে। এর মধ্যে কিছু পরীক্ষা নেবে বোর্ড। বাকি নেবে স্কুল। এই চার বছরের কোর্স হবে মাল্টি ডিসিপ্লিনারি। এর মানে হলো পড়ুয়ারা তাঁদের নিজেদের পছন্দের বিষয় বেছে নিতে পারবে।





