আর পাওয়া যাবে না মুরগির মাংস কিংবা মুরগির ডিম। কঠিন অসুখে আক্রান্ত হয়েছে মুরগিরা। ক্রমশ ছড়িয়ে পড়ছে এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা। ‘এইচ১এন১’ ভাইরাসের দ্বারা আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছে হাজার হাজার মুরগি। ফলে এখন থেকে বাজারে আর পাওয়া যাবে না মুরগির মাংস এবং ডিম। মাথায় হাত পড়েছে পোল্ট্রি চাষী থেকে মাংস ব্যবসায়ীদের। চিকেন প্রেমীদের পাতেও এখন আর পড়বেনা মুরগির মাংস দিয়ে তৈরি কোন পদ।
জানা যাচ্ছে, ওড়িশা, পুরী সহ বেশ কয়েকটি জেলায় বাট ফ্লুর সংক্রমণ দেখা দিয়েছে। ওড়িশার সীমানাবর্তী জেলা পূর্ব পশ্চিম মেদিনীপুর দিয়েই পশ্চিমবঙ্গে ঢুকতো মুরগির ডিম ও মাংস। এই বাট ফ্লুর সংক্রমণের জেরে আপাতত মাংস এবং ডিম আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে প্রশাসন। দাঁতন হহ সীমান্তবর্তী এলাকায় চলছে নাকাচেকিংও।
রাজ্যের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, পশ্চিমবাংলায় এই মুহূর্তে ভয়ের কোনো আশঙ্কা নেই। বার্ড ফ্লু যেহেতু দ্রুত সংক্রামিত হয় সেই জন্য সতর্ক থাকার জন্য আপাতত দু সপ্তাহ আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এ রাজ্যের মাংস এবং ডিমের চাহিদা পূরণ করার জন্য উড়িষ্যা থেকে প্রতিদিন পায় কয়েকশো লরি, পশ্চিমবঙ্গে ঢোকে। এই আমদানিতে আপাতত নিষেধাজ্ঞা জারি করায় স্থানীয়ভাবে মুরগির মাংস এবং ডিমের দাম বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রশাসনের তরফ থেকে জানানো হয়েছে যে কালোবাজারি রুখতে তৎপর হয়ে চেষ্টা চালাবে প্রশাসন।
দাঁতনের প্রাণী চিকিৎসক জয়দেব গোস্বামী জানান, “ওড়িশা রাজ্যে বার্ড ফ্লু সংক্রমণ ছড়িয়েছে ভয়ঙ্কর ভাবে। আমাদের এই রাজ্য যেহেতু ওড়িশার একেবারেই পাশাপাশি, তাই বেশি সতর্কতা অবলম্বন করা উচিৎ। বিশেষ করে যাতে পোল্ট্রির মাংস ওডিম এ রাজ্যে ঢুকতেই না পারে, তার জন্য কড়া হয়ে প্রশাসন উচিৎ কাজই করেছে”।
এছাড়া দাঁতন এলাকাতে যাঁরা মুরগি চাষ করেন, তাদেরকে প্রশাসনের তরফ সচেতন করা হচ্ছে। এই এলাকার মুরগি চাষীদের পোল্ট্রি খামার থেকে নমুনা সংগ্রহ করে দেখা হচ্ছে সংক্রমণ কোনওভাবে শুরু হয়েছে কি না।





