এবার বিজেপি সদস্যের পরিবারের উপর নজিরবিহীন বর্বর আক্রমণের অভিযোগ উঠল রাজ্যের শাসকদলের বিরুদ্ধে। নদিয়ার হরিণঘাটায় এই নৃশংস নির্যাতনের ঘটনা ঘটে শনিবার বিকাল ৬টা নাগাদ। রেশনে দুর্নীতির প্রতিবাদ করায় হামলার শিকার হন বিজেপির সংখ্যালঘু মোর্চা নেতা আবু তালেব মন্ডল এবং তাঁর পরিবার, এমনই অভিযোগ করেছেন ওই নেতার পুত্র খোকন মণ্ডল। খোকন মন্ডলকে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ করেন, ‘ঘটনার সূত্রপাত শনিবার সকালে। রেশনে কি কি আছে দেখতে যান আবু তালেব মন্ডল, এরপর সেখানে কয়েক জন সংখ্যালঘু মানুষ রেশন দোকানদারের সাথে বাজে চাল সেটাও পরিমাণে কম দেওয়া হচ্ছে বলে চিৎকার করতে থাকেন। পাড়ার লোকেদের সাথে গলা মিলিয়ে আবু তালেব বাবুও রেশন দোকানদারকে খারাপ মাল ও কম মাল দেওয়ার প্রতিবাদ জানান। পাশেই তৃণমূলের পঞ্চায়েত প্রধান মাওলা বক্স দাড়িয়ে ছিলেন, আবু তালেব তাকেও এ বিষয়ে প্রতিবাদের সুরে জানান। ঠিক তখনই মাওলা বক্স আবু তালেব কে শাসানি দেয়, রেশন যেরকম চলছে সেই ভাবেই মাল নিতে হবে! বেশি কথা বল্লে হুক্কাপানি বন্ধ হয়ে যাবে। এরপর আবু তালেব আরও জোড়ে প্রতিবাদ জানালে তাকে ধাক্কা মেরে ফেলে দেওয়া হয় এবং দেখে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।’
ওই সময় সেখানে কিছু তৃণমূল নেতাও ছিলেন বলে অভিযোগ খোকনের। তাঁর বাবার সঙ্গে তখনই বচসা বাঁধে ওই তৃণমূল নেতাদের। তারা তখন হুমকি দেয় যে এর ফল ভালো হবে না। এরপরে বিজেপি নেতা আবু তালেব মন্ডল বাড়ি ফিরে আসেন। কিন্তু সেদিনই সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ প্রায় হাজার-দেড় হাজার তৃণমূল সদস্য নিয়ে বিজেপি নেতা আবু তালেব মন্ডলের বাড়িতে হানা দেয় ওই তৃণমূল নেতারা। চলে অবাধে ভাঙচুর ও লুঠপাট।
বিজেপি নেতার পুত্র খোকন মণ্ডলের অভিযোগ, সেখানে কিছু তৃণমূলের সদস্যও উপস্থিত থেকে পুরো ব্যাপারটি তদারকি করছিলেন, এরপর তাঁদের সঙ্গে বচসা বাঁধে খোকন মন্ডলের বাবার সঙ্গে, তারপরই তৃণমূলের ওই সদস্যরা হুমকি দেয় বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। ভাঙচুর করা হয় ঘরের আসবারপত্র, দরজা, জানলা। তছনছ করে দেওয়া হয় অধিকাংশ জিনিস। ভাঙা হয় দুটি বাইক। ঘটনায় গুরুতর আহত হন খোকন মন্ডলের মা। তাদের বাড়িতে গেলে দেখা যায় কীভাবে নির্বিচারে গোটা বাড়ি ভাঙচুর করেছে শাসকদলের লোকজন। তাঁর মা যখন অত্যাচারের বর্ণনা দিচ্ছিলেন আতঙ্কের ছাপ রীতিমত স্পষ্ট। তার পায়ে হাতে আঘাত পাওয়ার ছাপও পরিস্কার।
খোকন মন্ডলের অভিযোগ যে, ওই এলাকার শাসকদলের নেতা মওলা বক্স মন্ডল এবং পঞ্চায়েত সদস্য আব্দুল্লাহ মন্ডলের নেতৃত্বে চলে এই হামলা। বিজেপি নেতার পুত্রের আরও অভিযোগ যে তারা চিকিৎসার জন্য স্থানীয় হাসপাতালে গেলেও চিকিৎসকরা কোন অজ্ঞাত কারণে প্রথমে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসাটুকুও করতে চাননি। পরবর্তীতে অনেক অনুরোধের পরে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা করে ছেড়ে দেওয়া হয়। এখনও বিজেপি নেতার স্ত্রীর রক্তক্ষরণ বন্ধ হয়নি বলে জানান পুত্র খোকন মন্ডল। এছাড়াও এখনও একাধিক গুরুতর সমস্যা রয়েছে তার মা-এর। কিন্তু বর্তমানে শাসক দলের আতঙ্কে তারা কোন সরকারী হাসপাতালে চিকিৎসা করতে যেতেও ভয় পাচ্ছেন। খোকন মন্ডল জানান যে, এখনও তাদের পুরো পরিবার ঘরছাড়া। এত বড় ঘটনা ঘটে গেলেও প্রথমে অভিযুক্তদের নামে থানায় অভিযোগ নিতে প্রাথমিকভাবে অস্বীকার করে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন। যদিও পরবর্তীতে এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে একজনকে আটক করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।





