আজ সকালেই পশ্চিমবঙ্গ (West Bengal) ও কেরল (Kerala) জুড়ে মোট ৯ জন আল-কায়দা জঙ্গিকে গ্রেফতার করেছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা। এই জঙ্গিদের মধ্যে ৬ জনই পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদের (Murshidabad) বাসিন্দা। আর এই ঘটনার পর থেকেই বঙ্গ রাজনীতিতে তুলকালাম শুরু হয়েছে। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে (Assembly election) সামনে রেখে শাসকদলের বিরুদ্ধে মাঠে নেমে পড়েছেন বিরোধীরা। মুখ খুলেছেন খোদ রাজ্যপালও।
আর এইবার এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে মুখ খুললেন বঙ্গ বিজেপি কান্ডারী দিলীপ ঘোষ(Dilip Ghosh)। এই ইস্যুতে সুর চড়িয়ে তিনি বললেন রাজ্য সরকারের জন্যই বাংলায় জঙ্গি কার্যকলাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
নিজের বক্তব্যের রাজ্য বিজেপি সভাপতি জানান, “পুলিশ জঙ্গিদের গ্রেপ্তার করতে পারছে না। অথচ সাধারণ মানুষকে বিজেপি করার অপরাধে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। গাঁজার কেস দেওয়া হচ্ছে। তৃণমূল জঙ্গলমহলে মাওবাদীদের গতিবিধি এবং সারা পশ্চিমবাংলায় ইসলামিক জঙ্গি সংগঠনের গতিবিধি বাড়িয়ে তুলছে। এই দুই গোষ্ঠীকে কাজে লাগিয়ে ভোট জেতার চেষ্টা করছে। বিজেপি নেতাদেরও খুন করানো হচ্ছে। CAA পাশ হওয়ার পর তৃণমূল বিরোধিতা করেছে।” নিজের স্পষ্ট বক্তব্যে তিনি বলেন “পশ্চিমবঙ্গ সরকারের জন্যই দেশে জঙ্গি কার্যকলাপ বাড়ছে।”
অভিযোগের সুরে তিনি বলেন “পশ্চিমবঙ্গ সরকারের দায়িত্ব সীমান্তে নজর রাখা। ভারত অসুরক্ষিত হয়ে যাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গের জন্য। কারণ, বাংলার সরকারই একমাত্র জাতীয় নিরাপত্তার পরিবর্তে রাজনীতিকে গুরুত্ব দেয়।” এর আগে খাগড়াগড় বিস্ফোরণ নিয়ে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙুল তুলেছিল বিজেপি। এবার এনআইএ’র গ্রেপ্তারি প্রসঙ্গে সরব গেরুয়া শিবির। তবে এই ইস্যুতে শুধু বিজেপিই নয়। ফায়দা তোলার সুযোগ হাতছাড়া করেনি কোনও বিরোধী দলই।
প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীররঞ্জন চৌধুরিও (Adhir Ranjan Chowdhury) তৃণমূলকে কটাক্ষ করেন। তিনি বলেন, “রাজনীতি করার জন্য বা এর ঘাড়ে ওর ঘাড়ে দোষ চাপানোর জন্য এ কথাগুলো বলছি না। বাংলায় পুলিশি ব্যর্থতার কথা পরিষ্কার। কয়েক বছর আগে খাগড়াগড়ে একটা বাড়িতে বিস্ফোরণ হওয়ার পর জানা গিয়েছিল সেখানে জঙ্গিরা লুকিয়ে ছিল। বড় রাস্তার ধারে পাকা বাড়িতে তারা ছিল। অথচ পুলিশ জানতেও পারেনি। বিস্ফোরণ না ঘটলে হয়তো জানতে পারতও না। এর আগেও বাংলায় জঙ্গি কার্যকলাপের ঘটনায় মুর্শিদাবাদের নাম উঠে এসেছে। ভারতের অন্যত্র জঙ্গি নাশকতার ঘটনাতেও মুর্শিদাবাদের নাম উঠেছে।” তবে এই বিস্তর অভিযোগ-এর ভিড়ে আত্মপক্ষ সমর্থন করতে এখনও মুখ খোলেননি ঘাসফুল শিবির।





