পঞ্চায়েত নির্বাচনের দিন এক অরাজকতার পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছিল রাজ্যে। কোথাও বোমাবাজি, কোথাও খু’নো’খু’নি, কোথাও ভোট লুট সবই হয়েছে। এরই মধ্যে ভোট গণনার দিন সৌজন্যের দৃশ্য দেখা গেল বিজেপি ও তৃণমূলের মধ্যে। আসানসোলে এক গণনা কেন্দ্রের বাইরে হাসিমুখে কথা বলতে দেখা গেল বিজেপি সাংসদ অগ্নিমিত্রা পাল ও তৃণমূল নেতা বিনোদ নুনিয়াকে। কিন্তু তা কী আদৌ সৌজন্যের?
কী অভিযোগ উঠেছিল বিনোদ নুনিয়ার বিরুদ্ধে?
ভোটের দিন রানিগঞ্জের জেমেরি পঞ্চায়েতে গুলি চলেছিল। চলবলপুরে বুথ লুঠ হওয়ার অভিযোগ উঠেছিল, দামালিয়াতে বিজেপির পোলিং এজেন্টকে মারধর করার অভিযোগও উঠেছিল। বিরোধীদের অভিযোগ, এই সব ঘটনার মূলে ছিলেন বিনোদ নুনিয়া।
আজ, মঙ্গলবার ভোট গণনার দিন সমর্থকদের নিয়ে বসে ভোটগণনা কেন্দ্রের বাইরে বসেছিলেন বিজেপি বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পাল। তাঁকে দেখে তৃণমূল নেতা বিনোদ নুনিয়া সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে আসেন। দুজনের মধ্যে সৌজন্য সাক্ষাৎ হল ঠিকই, তবে অভিযোগ করতেও ছাড়লেন না অগ্নিমিত্রা।
তৃণমূল নেতাকে কী বলেব অগ্নিমিত্রা?
তৃণমূল নেতাকে অগ্নিমিত্রা বলেন, “আমি তো তোমার অফিসে গিয়েছিলাম সৌজন্য বজায় রাখতে, তোমাকে সম্মান দিয়েছিলাম। কিন্তু তুমি তো সেই প্রতিদান দিলে না”? বিনোদের উত্তর, “দিয়েছি তো দিদি”।
ফের হাসিমুখে অগ্নিমিত্রা বলেন, “কই দিলে? তোমরা তো ছাপ্পা দিতে ঢুকেছিলে? ঢোকোনি বলছ”? বিনোদের সাফাই, “ঢুকেছিলাম। ভোট কেমন হচ্ছে দেখতে ঢুকেছিলাম”।
নরম হেসে অগ্নিমিত্রার জবাব, “৩০-৪০ জন কি বুথে ঢুকতে পারে? তুমি বেশিদিন রাজনীতি করছ, আমি কম দিন করছি। কিছু তো জানি”। তৃণমূল নেতাকে বিধায়ক আরও বলেন, “আমাদের নেতারা গুলি চালায়নি। সে দিন গুলি কে চালিয়েছিল, তুমি জানো। সাদা গাড়ি চেপে কে এসেছিল, কার হাতে থলি ছিল”।
এদিন অগ্নিমিত্রা আরও বলেন, “ভোট যেভাবে হয়েছে তাতে আমি জয়ের আশাই করি না। আমার মনে হয়, সুকান্তবাবু, শুভেন্দুবাবুরাও আশা করেন না। যেভাবে ভোট হয়েছে, তাতে তৃণমূলই জিতবে। তবে বিজেপি কর্মীরা বা কাউন্টিং এজেন্টরা যেন কাউন্টিং শেষে নিরাপদে বাড়ি ঢুকতে পারেন, সেজন্যই আমি এই গণনাকেন্দ্রের বাইরে বসে আছি”।






