প্রচার পেতে চান তৃণমূল সাংসদরা, সোনারপুর হোম কাণ্ডে মিমি চক্রবর্তীকে খোঁচা দিলীপের।

নববর্ষের শুভ দিনে এক অন্যরকম ভাবে উপস্থিত হয়েছিলেন সাংসদ-অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তী। সোনারপুরে লাঙ্গলবেড়িয়া গোবিন্দপুরে কাছে আনন্দ ঘর ফাউন্ডেশন-এর কিছু বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের মুখে হাসি ফোটান তিনি। নববর্ষের দিনে মোট ১২০ জন ছোট্ট ছোট্ট শিশুদের জন্য জামা, কাপড় ও খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থা করেছিলেন সাংসদ। ভিডিয়ো কলে শিশুদের সঙ্গে কথাও বলেন তিনি এবং লকডাউন উঠে গেলে ওদের সঙ্গে দেখা করার ও পরবর্তীতে ওদের জন্য আরও কিছু করার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছিলেন অভিনেত্রী-সাংসদ।

কিন্তু এইবার সেই কারণেই মিমি চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন দিলীপ ঘোষ। বিজেপি রাজ্য সভাপতি বলেন, ‘এত এদের প্রচার পাওয়ার নেশা, যে কারণে লকডাউনটাও বাংলায় মানা হচ্ছে না। যে ঘটনা সোনারপুরে ঘটেছে, তা খুবই ভয়ঙ্কর ঘটনা। এইডস আক্রান্তদের অবশ্যই পরিচয় গোপন থাকা উচিত। এইসব শিশুদের অন্যান্য সংক্রমণের সম্ভাবনা বেশি থাকে। সাংসদের কী দরকার ছিল এরকম একটা সময়ে সর্বসমক্ষে অনুষ্ঠান করার। সারা দেশ যখন করোনার সঙ্গে লড়াই করছে, তখন এরা রাজনীতি করতে ব্যস্ত।’

সোনারপুরের হোমকাণ্ডের ছবি বলছে, এইচআইভি আক্রান্তদের ছবি ফেসবুকে ফলাও করে পোস্ট করেছেন বারুইপুরের এসপি। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকা অনুসারে কোনওভাবেই এইচআইভি পজিটিভদের পরিচয়, এমনকী ফেসিয়াল রেকগনিশনও পাবলিকলি প্রচার করা যায় না। এক্ষেত্রে এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন কাজ কীভাবে হলো? এর কোনও সদুত্তরও পাওয়া যায়নি। তবে, এই ঘটনায় আঙুল উঠেছে যাদবপুর লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ মিমি চক্রবর্তী, বারুইপুরের এসপি রশিদ মুনির খান এবং অবশ্যই শিশু-রা যে হোমে থাকে তার প্রধান কল্লোল ঘোষ-এর দিকে।

ছবিতে দেখা গিয়েছে অধিকাংশ শিশুদের মুখে মাস্ক বা গ্লাভস নেই। তাদের ঘিরে দাঁড়িয়ে রয়েছেন খোদ বারুইপুর জেলার এসপি রশিদ মুনির খান এবং তাঁর দলবল। হোম’টির প্রধান কল্লোল ঘোষ আবার জানেন না যে তাঁর হোমের শিশুদের ছবি ফেসবুকে পোস্ট হয়ে যাওয়ার কথা। এইআইভি আক্রান্ত শিশুদের ছবি কীভাবে সোশ্যাল সাইটে পোস্ট করে দেওয়া হল? তার কোনও উত্তরও তিনি দিতে পারেননি। যদিও মিমি বলেছেন এই উদ্যোগ একেবারেই ব্যক্তিগত। এর সঙ্গে রাজনীতির কোনও যোগাযোগ নেই।

RELATED Articles

Leave a Comment