অবশেষে জল্পনা সত্যি হল। মুখ্যসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে তৃণমূলেই যোগ দিলেন রায়গঞ্জের বিজেপি বিধায়ক কৃষ্ণ কল্যাণী। নিজের পুরনো দলের উপর ক্ষোভ উগড়ে দিলেন তিনি। তৃণমূলে কেন যোগ, সেই কারণও বাতলালেন।
এদিন তৃণমূলে যোগ দিয়ে কৃষ্ণ কল্যাণী বলেন, “বিজেপিতে কাজের পরিবেশ নেই। যা আছে তা শুধুই ষড়ষন্ত্র। আর এভাবে কোনওদিনও ভাল কাজ করা যায় না। আমি কাজ করার চেষ্টা করেছি। বড় জয়েনিং করিয়েছি। বিনিময়ে আমি ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছি। তাই বাধ্য হয়ে দল ছেড়েছি”।
তাঁর কথায়, কেন্দ্র মানুষের জন্য কাজ করছে না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেভাবে মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছেন, মানুষের জন্য কাজ করছেন, তা দেখে অনুপ্রাণিত হয়েছেন সাংসদ। সেই কারণেই দলবদলের সিদ্ধান্ত।
বিগত কয়েকমাস ধরেই দলের বিরুদ্ধে সুর চড়াচ্ছেন রায়গঞ্জের বিধায়ক। নাম না করেই তিনি দিলীপ ঘোষ, দেবশ্রী চৌধুরীর বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। সেই সময় তিনি বলেন, “এখানকার সাংসদ কখন আসেন, কখন যান আমরা কিছুই জানি না। এলাকার মানুষ প্রয়োজনে তাঁর দেখা পান না”।
এরপর দলের নানান কর্মসূচি থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন কৃষ্ণ কল্যাণী। সাংবাদিক বৈঠক করে বলেছিলেন, “জানানো প্রয়োজন তাই বলছি। যেখানে বিধায়কের সম্মান নেই, সেখান থেকে সরে যাওয়াই ভালো”।
বিধায়কের এমন দলবিরোধী মন্তব্য উসকে দিয়েছিল দলবদলের জল্পনা। এই পরিস্থিতিতে বিতর্ক ধামাচাপা দিতে আসরে নেমেছিলেন মেদিনীপুরের সাংসদ দিলীপ ঘোষ। বলেছিলেন, “কৃষ্ণ কল্যাণী পার্টিতে নতুন এসেছেন। তাই সমস্ত নিয়মকানুন জানেন না। আস্তে আস্তে শিখে নেবেন”। যদিও তাতে থামেনি কানাঘুষো।
এই টানাপোড়েনের মাঝেই কিছুদিন আগে কৃষ্ণ কল্যাণীকে শোকজ করে রাজ্য কমিটি। এরপরই বিজেপির সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেন রায়গঞ্জের বিধায়ক কৃষ্ণ কল্যাণী। সাংবাদিক বৈঠকে তিনি জানান, দেবশ্রী চৌধুরীর সঙ্গে একই দল করা তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়। এই ঘটনায় স্বাভাবিক ভাবেই বাড়িয়ে দিয়েছিল তাঁর তৃণমূলে যোগের সম্ভাবনা। কানাঘুষো শুরু হয়েছিল রাজনৈতিক মহলে। সেই জল্পনায় শিলমোহর। আজ, বুধবার তৃণমূলে যোগ দিলেন কৃষ্ণ কল্যাণী।





