বঙ্গ হিংসা! মুসলিম হয়ে বিজেপিকে ভোট! মেরে হাসপাতালে পাঠাল শাসকদল

পদ্ম শিবিরকে ভোট দেওয়ার মাশুল গুনছে বাংলার একটি পরিবার। ভোট গণতন্ত্রের অধিকার প্রয়োগ। নিজের ইচ্ছায় নিজের বিচার বুদ্ধিকে কাজে লাগিয়ে একটি মানুষ নিজের নাগরিক অধিকার প্রয়োগ করে। কিন্তু সেখানেও মাথা গলায় মাতব্বরেরা। আর তাইতো এত হিংসা নির্বাচন জুড়ে।

গতকাল ছিল চলতি বিধানসভা নির্বাচনের এপিসেন্টার নন্দীগ্রামে নির্বাচন। গোটা দিন ধরেই হিংসা-অশান্তির খবর পাওয়া যায়। কিন্তু এতেই শেষ হয়নি। এবার বিজেপিকে ভোট দেওয়ার অপরাধে এক মুসলিম পরিবারকে মেরে হাসপাতালে পাঠানোর অভিযোগ উঠলো শাসক দল তৃণমূলের বিরুদ্ধে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার গোসাবার মোল্লাখালি গ্রামের ভোট মিটতেই নতুন করে শুরু হল অশান্তি।

উল্লেখ্য, গতকাল মোটের উপরে শান্তিতেই কেটেছিল দক্ষিণ ২৪ পরগনায় নির্বাচন। কিন্তু ভোট মিটতেই নতুন করে শুরু হয় অশান্তি। মুসলিম হয়ে গেরুয়া শিবিরের সমর্থক হওয়া আর বিজেপিকে ভোট দেওয়া মাশুল গুনতে হল এক পরিবারকে। তাঁদের মেরে হাসপাতালে পাঠাল তৃণমূল কর্মীরা। আপাতত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই পরিবার।

আরও পড়ুন – ‘গোড়ালির কাছে অ্যাঙ্কেল ভেঙে গেছে’, সেই পা দোলাচ্ছেন মমতা! দেখুন পর্দাফাঁস ভিডিও

কি ঘটনা ঘটেছিল এদিন? জানা গেছে, গোসাবার মোল্লাখালির বাসিন্দা আফতারুদ্দিন লস্কর প্রতিদিনের মতো শুক্রবার নিজের দোকান খুলতে গিয়েছিলেন। কিন্তু দোকান খোলার সময় শাসক দলের মদতপুষ্ট দুষ্কৃতীরা ওনাদের উপর চড়াও হয়। তাঁরা মুসলিম হয়ে কেন বিজেপিকে ভোট দিয়েছে, সেই কথা জিজ্ঞাসা করতে থাকে এবং আফতারুদ্দিনকে দোকান খুলতে বাধা দেয়। দুই পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা সংঘর্ষের রূপ নিয়ে নেয়। ঘটনার খবর পেয়ে আফতারুদ্দিনের পরিবার ঘটনাস্থলে চলে আসে। এরপর আরও উত্তেজক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।

আরও পড়ুন – ডাল দে? গোলি ডাল দে? কেন্দ্রীয় বাহিনীর সামনে বিজেপি কর্মীকে অকথ্য মার ‘গণতন্ত্রপ্রেমী’ সোহম চক্রবর্তীর দেহরক্ষী’র

তৃণমূলের দুষ্কৃতীরা বাঁশ নিয়ে তাঁদের উপর আক্রমণ করে। আফতারুদ্দিনের বৃদ্ধ বাবা তাঁদের মারে মাটিতে লুঠিয়ে পড়ে। তৃণমূলের আঘাতে আহত হন আফতারুদ্দিনের মা। রক্তাত্ত্ব অবস্থায় আফতারুদ্দিন, তাঁর বাবা আবুল ফারাজ আর তাঁর মাকে প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে চলে আসে বিশাল পুলিশ বাহিনী। তৃণমূলের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ করে পরিবার।

কিন্তু যথারীতি অন্যান্য ঘটনার ন্যায় তৃণমূলের তরফ থেকে এই ঘটনাকে নিছকই পারিবারিক বিবাদ বলে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করা হয়।

RELATED Articles