পুরভোটে হিংসার অভিযোগ নিয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ বিজেপি, পুরভোট কী বাতিল হবে?

গত শনিবার ছিল রাজ্যের রাজ পুরনিগমে নির্বাচন। এদিন বড়সড় অশান্তি না হলেও, রাজ্যের নানান জায়গা থেকে পুরভোটের দিন বিক্ষিপ্ত ঘটনার খবর শোনা গিয়েছে। কোথাও ভুয়ো ভোটার দিয়ে ছাপ্পা ভোট, তো কোথাও প্রার্থীর উপর হামলা তো আবার কোথাও বুথের বাইরে গুলি চলার অভিযোগ উঠেছে।

আজ, সেই চার পুরনিগমে ভোটের ফলাফল প্রকাশের দিন। ভোট গণনার শুরু থেকেই দেখা গিয়েছে শাসকদলের পাল্লা ভারী। নানান জায়গায় সবুজ ঝড়ই উঠেছে। এসবের মধ্যেই আজ, সোমবার পুরভোটে হিংসার অভিযোগ তুলে কলকাতা হাইকোর্টের দারস্থ হল বিজেপি।

বলে রাখি, অতীতে বিধাননগরের নির্বাচনে প্রত্যেকবারই নানান অশান্তি দেখেছে বঙ্গবাসী। এবারেও তার অন্যথা হল না। বিধাননগরের ৪১ নম্বর ওয়ার্ডে বিজেপি প্রার্থী প্রিয়াঙ্কা চক্রবর্তীর স্বামীকে মেরে মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে।

অভিযোগ করা হয়, ওই ওয়ার্ডের ১ এবং ২ নম্বর বুথে প্রিসাইডিং অফিসাররের সামনেই শাসক দলের পোলিং এজেন্ট বহিরাগতদের নিয়ে এসে ছাপ্পা ভোট করাচ্ছিল। শুধু বিধাননগরই নয়, নানান জায়গা থেকেই নানান বিক্ষিপ্ত ঘটনার খবর মিলেছে।

আসানসোলে আবার ঘটেছে আর এক কাণ্ড। সেখানে বিজেপি প্রার্থীকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছিল তৃণমূলের বিরুদ্ধে। বাংলার ভোট রাজনীতিতে এমন অভিযোগ সচরাচর শোনা যায় নি এর আগে। আসানসোলের ৪২ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী মধুসূদন দে ও তাঁর ছেলে দীর্ঘক্ষণ নিখোঁজ ছিলেন। পরে তাঁরা ফিরে এসে দাবী করেন যে শাসক দলের লোকেরা নাকি তাঁদের তুলে নিয়ে গিয়েছিল।

গতকাল, শনিবার ভোট শুরু হওয়ার পর থেকেই নানান জায়গা থেকে নানান অভিযোগ আসতে থাকে শাসকদলের বিরুদ্ধে। বেলা গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে অভিযোগও বাড়তে থাকে। নির্বাচনের দিন বিকেলেই বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার বলেন যে বাংলায় ভোটের নামে প্রহসন হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, রাজ্য নির্বাচন কমিশন শান্তিপূর্ণ ভোটের আশ্বাস দিয়েছিল। কিন্তু কথা রাখতে কমিশন ব্যর্থ।

ভোটে হিংসার অভিযোগ তুলে গতকাল, রবিবারই রাজ্য নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছিল গেরুয়া শিবির। এবার ভিত বাতিলের দাবী নিয়ে হাইকোর্টে গেল বিজেপি। প্রধান বিচারপতির দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা সুকান্ত মজুমদারের। বিজেপির দাবী আসানসোল ও উত্তর ২৪ পরগণার ভোট যাতে বাতিল করা হয়।

RELATED Articles