আজ, শুক্রবার প্রকাশিত হয়েছে ২০২২ সালের প্রাথমিক টেট পরীক্ষার ফলাফল (2022 TET exam result)। এদিন ফলাফল প্রকাশের পর সাংবাদিক বৈঠকে যোগ দেন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু (Bratya Basu)। সেখানে নিয়োগ দুর্নীতিতে ধৃত তৃণমূল যুব নেতা কুন্তল ঘোষের (Kuntal Ghosh) বাড়ি থেকে টেটের উত্তরপত্র উদ্ধারের ইস্যুতে মুখ খোলেন শিক্ষামন্ত্রী। কড়া বার্তা দিয়ে তিনি জানান যে কেউ যদি দালালের ফাঁদে পা দেয়, তাহলে সরকার বা পর্ষদ সেই দায় নেবে না।
এদিন প্রাথমিক পর্ষদের ফলাফল প্রকাশের পর সাংবাদিক বৈঠকে ব্রাত্য বসু বলেন, “এবারের টেটের ওএমআর শিট পর্ষদের পাশাপাশি পরীক্ষার্থীর কাছেও রয়েছে। ওই ওএমআর শিট কেউ যদি দালালকে দেয়, তার দায় পর্ষদের নয়। তেমন হলে দালাল যতটা দায়ী, প্রার্থীও ততটাই। কোনও চাকরিপ্রার্থী দালালের ফাঁদে পা দেবেন না। কেবলমাত্র মেধা, শ্রম, যোগ্যতা ও পর্ষদের স্বচ্ছতার উপর নির্ভর করুন। লখিন্দরের বাসর ঘরের মতো ব্যবস্থা করা হয়েছে। কালনাগিনী ঢোকার কোনও উপায় নেই। নিয়োগে স্বচ্ছতা আনতে সচেষ্ট রাজ্য সরকার”।
নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগের মধ্যে এই টেট পরীক্ষা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ছিল। এদিন ব্রাত্য বসু জানান, টেট পরীক্ষায় যে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা রাজ্যের ইতিহাসে প্রথম। শিক্ষামন্ত্রীর দাবী, এক শ্রেণির মানুষ সোশ্যাল মিডিয়ায় এই পরীক্ষা নিয়ে অপপ্রচার চালিয়েছিল। তারপরও পর্ষদ স্বচ্ছভাবে ফল প্রকাশ করতে পেরেছে বলে জানান তিনি।
বলে রাখি, গত ২১শে জানুয়ারি নিয়োগ দুর্নীতি কাণ্ডে গ্রেফতার হন হুগলির তৃণমূল যুব নেতা কুন্তল ঘোষ। চিনার পার্কে তাঁর জোড়া ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালিয়ে একটি খাতা, ডায়েরি ও ২০২২ সালের প্রাথমিক টেটের ১৮৯টি উত্তরপত্র উদ্ধার করে ইডি। সেই ডায়েরিতে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য রয়েছে বলে দাবী ইডি-র। সেই থেকে প্রশ্ন ওঠে যে তাহলে কী ২০২২ সালে নিরাপত্তায় মোড়া টেটের চাকরিও বিক্রি হয়েছে?
এদিন কুন্তলের ফেক ওয়েবসাইটের প্রশ্নও উঠে আসে। তদন্তে উঠে এসেছে, যাঁরা টাকা দিতেন কুন্তল, তাঁদের নাম একটি ওয়েবসাইটে উঠে যেত। পর্ষদের দাবী, সেগুলি ভুয়ো ওয়েবসাইট। পর্ষদ সভাপতি গৌতম পাল জানান, তিনি ভুয়ো ওয়েবসাইট সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন। এই ধরনের ওয়েবসাইটের দায়ও যে সরকারের নয়, তাও স্পষ্ট জানিয়ে দেন ব্রাত্য বসু।






