অবশেষে অবসান ঘটল ১৪ বছরের অপেক্ষার। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ মেনেই প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের নিয়োগপত্র দেওয়া শুরু করল শিক্ষা দফতর। আজ, বৃহস্পতিবার ডাকবিভাগ মারফৎ প্যানেলে নাম থাকা প্রার্থীদের বাড়ি বাড়ি নিয়োগপত্র বণ্টন শুরু করল দক্ষিণ ২৪ পরগনার প্রাথমিক শিক্ষা সংসদ দফতর। হাইকোর্টের বিচারপতি কৃষ্ণা রায় ও বিচারপতি অমৃতা সিনহার ডিভিশন বেঞ্চের নির্দেশে ১৫০৬ জন প্রাথমিক শিক্ষকের নিয়োগপত্র বণ্টন শুরু হয়েছে।
কী জানাল শিক্ষা সংসদ?
এই বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের চেয়ারম্যান অজিতকুমার নায়েক জানান, “প্রথমদিন ২০০ জনকে নিয়োগপত্র পাঠানো হয়েছে। আগামী তিন-চারদিনের মধ্যে অবশিষ্টদেরও পাঠানো হবে। যেহেতু ২০০৯ সালের বিজ্ঞপ্তি তাই কাউন্সিলিং হয়নি। তবে প্রার্থীদের যাতায়াতে সুবিধার কথা মাথায় রেখে তাঁর নিজের ব্লক বা মহকুমা এলাকার যে সমস্ত স্কুলে শূন্যপদ ছিল সেখানেই দেওয়া হয়েছে”।
প্যানেলে যাদের নাম রয়েছে, ছুটির দিনেও তাদের নিয়োগপত্র পাঠানোর কাজ জারি থাকবে বলে জানা গিয়েছে। ২০০৯ সালের বিজ্ঞপ্তি মেনেই আগামী ৩০শে আগস্টের মধ্যে দক্ষিণ ২৪ পরগণার ১,৫০৬টি শূন্যপদে শিক্ষক নিয়োগ করতে হবে, প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদকে এমনটাই নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট।
আদালতের নির্দেশ সত্ত্বেও তা পালন না করায় গতবছর শিক্ষা সচিবের রিপোর্ট তলব করেছিল ডিভিশন বেঞ্চ। সেই রিপোর্ট পেশ করে এবার শিক্ষা দফতরের সচিব জানায়, চলতি মাসের ৮ তারিখে ১,৪০৩টি সুপার নিউমেরিক পদ পূরণের অনুমতি দিয়েছে রাজ্য। দক্ষিণ ২৪ পরগনায় আগেই ১০৩টি শূন্যপদ রয়েছে। তাহলে মোট পূরণের পদ দাঁড়ায় ১,৫০৬টি শূন্যপদ। সচিবকে ফের নিয়োগের বিষয়ে ৩০ আগস্ট রিপোর্ট দিতে নির্দেশ দিয়েছে বেঞ্চ।
জানা গিয়েছে, ২০০৯ সালের বিজ্ঞপ্তি মেনে দক্ষিণ ২৪ পরগনার আরও ৮২০ জন চাকরিপ্রার্থী আন্দোলন করেছেন। ওই চাকরিপ্রার্থীদের তরফে দেবাশিস বিশ্বাস বলেন, “আমরা যাঁরা কোর্টে ও রাস্তায় ছুটেছি, তাঁরাই এই দফায় নিয়োগপত্র পাচ্ছি না। প্রাথমিক শিক্ষা সংসদ দাবি না মানলে আন্দোলন ও কোর্টে যেতে হবে”।





